ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জনপ্রিয়তা বাড়ছে আখের সঙ্গে ‘সাথি ফসল’ চাষে

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৪০ বার পড়া হয়েছে

আর নয় শুধু আখ, সাথী ফসলের বাজাই ঢাক। আখের সাথে সাথী ফসল একটি লাভজনক প্রযুক্তি। দেশের ১৫ (পনের) টি চিনিকল এলকায় এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আখের সাথে সাথী ফসল হিসেবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। ‘সাথী’ পদ্ধতি অনেকের কাছে শুনতে নতুন মনে হলেও ঈশ্বরদীতে আখের সাথে সাথী ফসল চাষআবাদ দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কম খরচে ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা এ পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তাই আখের সাথে সাথী ফসল চাষাবাদে ভালো ফলনেরও স্বপ্ন বুনছেন এখানকার কৃষকা।

আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। তাৎক্ষণিক অর্থ না আসায় কৃষকরা তাই দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ যখন হারিয়ে ফেলছিলেন। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সহায়তা কল্পে ঈশ্বরদীস্হ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট গত ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুরু করেছে একটি প্রকল্পের কার্যক্রম। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের নাম ‘আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্প।’ এই প্রকল্পের কারণে কৃষকরা সাথি ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে পাশাপাশি আখ শিল্পকে নিয়ে আবার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কৃষকদের মাঝে প্রকল্পটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

সুগার ক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্টরা জানান, আখ বাংলাদেশের খাদ্য ও শিল্পে ব্যবহার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল, যা জমিতে প্রায় ১৩-১৪ মাস থাকে। উপরন্তু তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের মূল্য না বাড়ার কারণে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে দিন দিন আখ চাষের জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিকভাবে দেশের চিনিশিল্পের ওপরে। তাই আখ ফসলকে এ বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য আখের সঙ্গে আরেকটি স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করে কৃষক ও এই শিল্পকে রক্ষা করার জন্য এই প্রকল্প গঠন করা হয়েছে। আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর, মুগ, আলু, কপি, মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন চাষ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ড. আবু তাহের সোহেল বলেন, ১৫টি সুগার মিল এলাকায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে । ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রায় আট শতাধিক কৃষকের জমিতে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। প্লটগুলোতে কৃষকরা যথেষ্ট সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আগামীতেও এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, প্রতি প্লটে কেমন খরচ হয় এলাকা অনুযায়ী। আবহাওয়া ও কৃষকের চাহিদা মোতাবেক তার জমিতে সাথি ফসল আবাদের ব্যবস্থা করা হয়। ভিন্নতা বুঝে কোথাও ডাল, কোথাও সবজি, কোথাও মসলাজাতীয় ফসল চাষের ব্যবস্থা করা হয়। বীজের মূল্যের ওঠানামা বা কমবেশি থাকায় একেক প্লটে একেক বাজেট হয়। এক বিঘা জমি চাষের জন্য একজন কৃষককে এই সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। কৃষকদের নগদ টাকা দেয়া হয় না। তবে যদি সে নিজে সেচ দিতে চায় সে ক্ষেত্রে তাকে সেচের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থটি আমরা দিয়ে দিই। সার, কীটনাশক, বীজ, মসলাসহ চাষাবাদ সামগ্রী আলাদা আলাদাভাবে ক্রয় করে কৃষককে সরবরাহ করা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে কৃষক নিজেই শ্রমিকের কাজটা করতে চান। সে ক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, নালা তৈরি, ফসল সংগ্রহে শ্রমিকের মজুরি বাবদ যেই অর্থটি বরাদ্দ করা হয় সেটি কৃষককে দিয়ে দিই। সাথি ফসল চাষে কৃষককে সব সামগ্রী সরবরাহ করা এই প্রকল্পের কাজ। নেট, বাঁশ, সাইনবোর্ডসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সব কিছুই কৃষককে সরবরাহ করতে হয়। বিএসআরআই বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে প্রতিটি প্লটের পৃথক কমিটি রয়েছে। তারা নিজ নিজ প্লটে অর্পিত দায়িত্ব পালন ও খরচাদি করে থাকেন।

সোমবার (১২ ফেব্রয়ারি) সরেজমিনে পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকা ঘুরে এবং মাঠদিবসে আগত উপকারভোগী কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা এই প্রকল্পে যথেষ্ট উপকারী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকার কষক আবু সাঈদ তুষারের প্রতিনিধি হাসেম আলী বলেন, ‘আমি জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসল মসুর, আলু ও ধনিয়া চাষ করেছি। গত বছরও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছিলেন। এবার তার চেয়ে আমি বেশি লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।’

উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জোয়ারদার বলেন, এ বছর আমি আখের সঙ্গে পেঁয়াজ ও মুগডাল করেছি। সব খরচ এই প্রকল্প থেকে দেয়া হয়েছে। ফসলও ভালো হয়েছে। আমি এবার ভালোই লাভবান হতে পারব।

পুরাতন ঈশ্বরদী গ্রামের কৃষক মো: জাহাঙ্গীর আলম সরদার বলেন, ‘আমি ১ বিঘা জমিতে বিএসআরআই আখের সঙ্গে পেঁয়াজ ও মসুর চাষ করেছি।

একই এলাকায় কৃষক খাইরুল বাশার বলেন, ‘আমি আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে আলু ও মুগডাল করেছি। এখানকার একজন পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় ৫০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছিলেন। হাজার টাকা মণ বাজারমূল্য ছিল। প্রায় অর্ধ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছিল। ইনশাল্লাহ আমার এরচেয়ে বেশি লাভ হবে। এ বছর আখেরও বাজার ভালো, সেখান থেকেও আমার ভালো লাভ হবে বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবু তাহের সোহেল আরো বলেন, আখ চাষে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থানের ফাঁকা জমি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকে। ওই ফাঁকা জমিতে সাথি ফসল হিসেবে ডাল, আলু, মসলা, সবজি চাষ করিয়ে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করানো হচ্ছে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রথম বছর সফলতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় বছরে তারই ধারাবাহিকতায় প্লট স্থাপনের কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। এটি তিন বছরের প্রকল্প ছিল, কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রমে খুশি হয়ে প্রকল্পের কাজ এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য আখ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষে কৃষককে উৎসাহিত করা।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. ওমর আলী বলেন, ‘আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। এ ফসল উঠতে ১২-১৪ মাস সময় লাগে, কিন্তু কৃষকের সবসময় টাকা দরকার। আবার আমাদের জমিও কম, কিন্তু একই জমি থেকে আমরা বিভিন্ন ফসল পেতে চাই। খরচ বেশি হচ্ছে, তাই খরচও বাঁচাতে চাই। সেজন্য আমরা আখের পাশাপাশি সবজি, মসলা এবং ডাল জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আখের ফলন বাড়ছে। এ অঞ্চলে যে ফসল ভালো হয়, সে ফসল আখের সঙ্গে চাষ করে মুনাফা অর্জন সম্ভব। জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, খরচ কমানো ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয়তা বাড়ছে আখের সঙ্গে ‘সাথি ফসল’ চাষে

আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আর নয় শুধু আখ, সাথী ফসলের বাজাই ঢাক। আখের সাথে সাথী ফসল একটি লাভজনক প্রযুক্তি। দেশের ১৫ (পনের) টি চিনিকল এলকায় এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আখের সাথে সাথী ফসল হিসেবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। ‘সাথী’ পদ্ধতি অনেকের কাছে শুনতে নতুন মনে হলেও ঈশ্বরদীতে আখের সাথে সাথী ফসল চাষআবাদ দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কম খরচে ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা এ পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তাই আখের সাথে সাথী ফসল চাষাবাদে ভালো ফলনেরও স্বপ্ন বুনছেন এখানকার কৃষকা।

আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। তাৎক্ষণিক অর্থ না আসায় কৃষকরা তাই দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ যখন হারিয়ে ফেলছিলেন। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সহায়তা কল্পে ঈশ্বরদীস্হ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট গত ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুরু করেছে একটি প্রকল্পের কার্যক্রম। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের নাম ‘আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্প।’ এই প্রকল্পের কারণে কৃষকরা সাথি ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে পাশাপাশি আখ শিল্পকে নিয়ে আবার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কৃষকদের মাঝে প্রকল্পটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

সুগার ক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্টরা জানান, আখ বাংলাদেশের খাদ্য ও শিল্পে ব্যবহার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল, যা জমিতে প্রায় ১৩-১৪ মাস থাকে। উপরন্তু তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের মূল্য না বাড়ার কারণে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে দিন দিন আখ চাষের জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিকভাবে দেশের চিনিশিল্পের ওপরে। তাই আখ ফসলকে এ বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য আখের সঙ্গে আরেকটি স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করে কৃষক ও এই শিল্পকে রক্ষা করার জন্য এই প্রকল্প গঠন করা হয়েছে। আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর, মুগ, আলু, কপি, মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন চাষ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ড. আবু তাহের সোহেল বলেন, ১৫টি সুগার মিল এলাকায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে । ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রায় আট শতাধিক কৃষকের জমিতে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। প্লটগুলোতে কৃষকরা যথেষ্ট সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আগামীতেও এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, প্রতি প্লটে কেমন খরচ হয় এলাকা অনুযায়ী। আবহাওয়া ও কৃষকের চাহিদা মোতাবেক তার জমিতে সাথি ফসল আবাদের ব্যবস্থা করা হয়। ভিন্নতা বুঝে কোথাও ডাল, কোথাও সবজি, কোথাও মসলাজাতীয় ফসল চাষের ব্যবস্থা করা হয়। বীজের মূল্যের ওঠানামা বা কমবেশি থাকায় একেক প্লটে একেক বাজেট হয়। এক বিঘা জমি চাষের জন্য একজন কৃষককে এই সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। কৃষকদের নগদ টাকা দেয়া হয় না। তবে যদি সে নিজে সেচ দিতে চায় সে ক্ষেত্রে তাকে সেচের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থটি আমরা দিয়ে দিই। সার, কীটনাশক, বীজ, মসলাসহ চাষাবাদ সামগ্রী আলাদা আলাদাভাবে ক্রয় করে কৃষককে সরবরাহ করা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে কৃষক নিজেই শ্রমিকের কাজটা করতে চান। সে ক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, নালা তৈরি, ফসল সংগ্রহে শ্রমিকের মজুরি বাবদ যেই অর্থটি বরাদ্দ করা হয় সেটি কৃষককে দিয়ে দিই। সাথি ফসল চাষে কৃষককে সব সামগ্রী সরবরাহ করা এই প্রকল্পের কাজ। নেট, বাঁশ, সাইনবোর্ডসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সব কিছুই কৃষককে সরবরাহ করতে হয়। বিএসআরআই বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে প্রতিটি প্লটের পৃথক কমিটি রয়েছে। তারা নিজ নিজ প্লটে অর্পিত দায়িত্ব পালন ও খরচাদি করে থাকেন।

সোমবার (১২ ফেব্রয়ারি) সরেজমিনে পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকা ঘুরে এবং মাঠদিবসে আগত উপকারভোগী কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা এই প্রকল্পে যথেষ্ট উপকারী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকার কষক আবু সাঈদ তুষারের প্রতিনিধি হাসেম আলী বলেন, ‘আমি জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসল মসুর, আলু ও ধনিয়া চাষ করেছি। গত বছরও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছিলেন। এবার তার চেয়ে আমি বেশি লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।’

উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জোয়ারদার বলেন, এ বছর আমি আখের সঙ্গে পেঁয়াজ ও মুগডাল করেছি। সব খরচ এই প্রকল্প থেকে দেয়া হয়েছে। ফসলও ভালো হয়েছে। আমি এবার ভালোই লাভবান হতে পারব।

পুরাতন ঈশ্বরদী গ্রামের কৃষক মো: জাহাঙ্গীর আলম সরদার বলেন, ‘আমি ১ বিঘা জমিতে বিএসআরআই আখের সঙ্গে পেঁয়াজ ও মসুর চাষ করেছি।

একই এলাকায় কৃষক খাইরুল বাশার বলেন, ‘আমি আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে আলু ও মুগডাল করেছি। এখানকার একজন পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় ৫০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছিলেন। হাজার টাকা মণ বাজারমূল্য ছিল। প্রায় অর্ধ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছিল। ইনশাল্লাহ আমার এরচেয়ে বেশি লাভ হবে। এ বছর আখেরও বাজার ভালো, সেখান থেকেও আমার ভালো লাভ হবে বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবু তাহের সোহেল আরো বলেন, আখ চাষে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থানের ফাঁকা জমি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকে। ওই ফাঁকা জমিতে সাথি ফসল হিসেবে ডাল, আলু, মসলা, সবজি চাষ করিয়ে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করানো হচ্ছে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রথম বছর সফলতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় বছরে তারই ধারাবাহিকতায় প্লট স্থাপনের কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। এটি তিন বছরের প্রকল্প ছিল, কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রমে খুশি হয়ে প্রকল্পের কাজ এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য আখ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষে কৃষককে উৎসাহিত করা।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. ওমর আলী বলেন, ‘আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। এ ফসল উঠতে ১২-১৪ মাস সময় লাগে, কিন্তু কৃষকের সবসময় টাকা দরকার। আবার আমাদের জমিও কম, কিন্তু একই জমি থেকে আমরা বিভিন্ন ফসল পেতে চাই। খরচ বেশি হচ্ছে, তাই খরচও বাঁচাতে চাই। সেজন্য আমরা আখের পাশাপাশি সবজি, মসলা এবং ডাল জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আখের ফলন বাড়ছে। এ অঞ্চলে যে ফসল ভালো হয়, সে ফসল আখের সঙ্গে চাষ করে মুনাফা অর্জন সম্ভব। জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, খরচ কমানো ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’