ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কোল্ড ইনজুরিতে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকের ভরসা পলিথিন

নিজস্ব প্রতিবেদক//
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

বেড়েছে শীতের প্রকোপের সাথে সাথে ঘন কুয়াশা। শীতের প্রকোপ ও ঘনকুয়াশায় কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষা করতে কৃষকদের ভরসাই পলিথিন। পলিথিন বিছিয়ে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকের আপ্রান চেষ্টা। এবার আগাম বোরো ধান রোপণে গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। কৃষকের এখন দম ফেলার সময় নেই। গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে কমবেশি বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষক বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু করেছে। বোরো আবাদ খেকে বাদ যাচ্ছে না বিভিন্ন খাল বিল ও পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠা চরসহ নীচু এলাকা।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবার বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর বোরো চাষ হয়েয়ে ছিল ১৬ হাজার ২শ’ হেক্টোর।
তবে এবার অনুকুল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তার কারণে লক্ষমাত্রার চেয়ে আরো দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি অফিস বলছে শীতের প্রকোপ ও ঘনকুয়াশায় কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরো বীজতলা পলিথিনের ব্যাবহার সুবিধা জনক। পলিথিন ব্যাবহারে বীজ তলার ক্ষতি হয় না।
অনেক কৃষকের জমিতে টমেটোর আবাদ ছিল। তারা বোরো ধান চাষের জন্য টমেটোর জমি থেকে টমেটোর গাছ কেটে ফেলে জমি প্রস্তুত শুরু করেছে।
পিরিজ পুর গ্রামের কৃষক কাদির জানাই জানান, বোরো ধান চাষের জন্য এবার তিনি একটি (কাচলে) ছোট জলাসয়ে বীজতলা তৈরি করেছেন। তবে প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষি দপ্তরের পরামর্শে বোরো বীজতলা গুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। তার মতে গত বছর এই পলিথিন দিয়ে না ঢাকার কারণে তার বেশ কিছু বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হয়ে যায়।
আরেক ফেন্সু জানান, তিনি এবার চার বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করবেন। তবে এই জন্য তিনি কিছুটা বাড়তি জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরি করেছেন। এসব বাড়তি চারা তিনি বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তিনিও বোরোর বীজতলা রক্ষায় পলিথিন পদ্ধতি শুরু করেছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, শীতের প্রকোপ ও ঘনকুয়াশায় বীজ তলায় পলিথিন ব্যাবহার করলে কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজ তলা রক্ষা পাবে। পলিথিন ব্যাবহারের ফলে বীজতলা গরম হয়ে থাকে এবং কুয়াশা পলিথিন ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজ তলা রক্ষা পাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কোল্ড ইনজুরিতে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকের ভরসা পলিথিন

আপডেট সময় : ০৪:০৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪

বেড়েছে শীতের প্রকোপের সাথে সাথে ঘন কুয়াশা। শীতের প্রকোপ ও ঘনকুয়াশায় কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষা করতে কৃষকদের ভরসাই পলিথিন। পলিথিন বিছিয়ে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকের আপ্রান চেষ্টা। এবার আগাম বোরো ধান রোপণে গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। কৃষকের এখন দম ফেলার সময় নেই। গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে কমবেশি বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষক বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু করেছে। বোরো আবাদ খেকে বাদ যাচ্ছে না বিভিন্ন খাল বিল ও পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠা চরসহ নীচু এলাকা।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবার বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর বোরো চাষ হয়েয়ে ছিল ১৬ হাজার ২শ’ হেক্টোর।
তবে এবার অনুকুল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তার কারণে লক্ষমাত্রার চেয়ে আরো দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি অফিস বলছে শীতের প্রকোপ ও ঘনকুয়াশায় কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরো বীজতলা পলিথিনের ব্যাবহার সুবিধা জনক। পলিথিন ব্যাবহারে বীজ তলার ক্ষতি হয় না।
অনেক কৃষকের জমিতে টমেটোর আবাদ ছিল। তারা বোরো ধান চাষের জন্য টমেটোর জমি থেকে টমেটোর গাছ কেটে ফেলে জমি প্রস্তুত শুরু করেছে।
পিরিজ পুর গ্রামের কৃষক কাদির জানাই জানান, বোরো ধান চাষের জন্য এবার তিনি একটি (কাচলে) ছোট জলাসয়ে বীজতলা তৈরি করেছেন। তবে প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষি দপ্তরের পরামর্শে বোরো বীজতলা গুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। তার মতে গত বছর এই পলিথিন দিয়ে না ঢাকার কারণে তার বেশ কিছু বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হয়ে যায়।
আরেক ফেন্সু জানান, তিনি এবার চার বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করবেন। তবে এই জন্য তিনি কিছুটা বাড়তি জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরি করেছেন। এসব বাড়তি চারা তিনি বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তিনিও বোরোর বীজতলা রক্ষায় পলিথিন পদ্ধতি শুরু করেছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, শীতের প্রকোপ ও ঘনকুয়াশায় বীজ তলায় পলিথিন ব্যাবহার করলে কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজ তলা রক্ষা পাবে। পলিথিন ব্যাবহারের ফলে বীজতলা গরম হয়ে থাকে এবং কুয়াশা পলিথিন ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজ তলা রক্ষা পাই।