ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কর্নাটকে কংগ্রেসের জয়: ভারতের দক্ষিণাঞ্চল ‘বিজেপিমুক্ত’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ ৫১ বার পড়া হয়েছে

কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন ছিল ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ও কংগ্রেসের ‘অগ্নি পরীক্ষা’। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির কাছে পরীক্ষা ছিল কর্নাটক জয়ের মাধ্যমে লোকসভা ভোটের আগে দাক্ষিণাত্যে ক্ষমতা বিস্তার করা। কংগ্রেসের কাছে লড়াইটা ছিল অস্তিত্ব রক্ষার। শেষ হাসি হাসল ভারতের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল। কর্নাটকে হেরে যাওয়ায় বস্তুত গোটা দক্ষিণ ভারত এখন ‘বিজেপিমুক্ত’। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার পর, এই প্রথম দেশটির কোনো বড় রাজ্যে ভোট হলো। সেই ভোটে জয়ের পর কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা যে উজ্জীবিত হবেন, তা বলাই বাহুল্য।

দক্ষিণ ভারতের পাঁচ রাজ্য— অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, কেরেলা, তামিলনাড়ু ও তেলঙ্গানার মধ্যে শুধুমাত্র কর্নাটকে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে সরকারে রয়েছে বিজেপি সমর্থিত এনআর কংগ্রেস। তাই কর্নাটক ছিল নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটপ্রচারে বারবার কর্নাটকে সভা করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হিন্দুত্বের প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু অধ্যুষিত কর্নাটকে মোদির কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়েছে রাষ্ট্রপ্রেম ও উন্নয়নের কথা। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে কাজ করল না ‘মোদি-ম্যাজিক’। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্নাটকের ২২৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস এগিয়ে ১৩৪টিতে এবং বিজেপি মাত্র ৬৫টিতে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, কর্নাটকে সাম্প্রতিক অতীতে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নেই। তবে কর্নাটকের রাজনীতিতে হিন্দুদের দু’টি প্রধান সম্প্রদায়, লিঙ্গায়েত এবং ভোক্কালিগাদের দ্বন্দ্ব বরাবরই প্রকট। সে দিকে নজর ছিল বিজেপির। লিঙ্গায়েতদের কিছুটা সমর্থন বিজেপির পক্ষে ছিলই। কিন্তু ভোক্কালিগাদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব বেশ কম।

ভোটের প্রচারে হিন্দুত্বের তাস না খেললেও হিন্দুত্ববাদীদের মন পেতে চেষ্টার কসুর করেনি বিজেপি। তার বড় উদাহরণ হলো গত বছরের হিজাববিরোধী আন্দোলন। এ হিজাব ইস্যুতে আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কর্নাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ হয়। শুধু তাই নয়, কর্নাটকে হালাল মাংস বিক্রি নিষিদ্ধের দাবিতে ২০২২ সালে শোরগোল শুরু হয়। শ্রীরাম সেনা, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ বেদিকের মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবির পর কর্নাটক বিধানসভায় বিল আনারও প্রস্তুতি নেয় বিজেপি সরকার।

অন্যদিকে, কর্নাটকে কংগ্রেসের জয়ের নেপথ্যে ‘নতুন’ সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের ভূমিকাও বড় হয়ে উঠেছে। একের পর এক নির্বাচন হেরে চলা শতাব্দীপ্রাচীন দলের সভাপতি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দুই রাজ্যের কুর্সিতে বসল কংগ্রেস। প্রথমে হিমাচল প্রদেশ এবং এবার কর্নাটক। লাগাতার নিজের রাজ্যে কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারকে নিয়ে পর পর সভা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। বস্তুত, তিনি সভাপতি হওয়া ইস্তক পরাজয় এসেছে শুধু মোদি ও শাহের রাজ্য গুজরাটে। তবে লক্ষ্য যে ‘বড়’ তা বুঝিয়ে দেন খড়গে। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই কর্নাটকবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আরও অনেক দূর যেতে হবে। ভালো কাজ করলে মানুষ পাশে থাকবেই।’’

‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার একটা দীর্ঘ সময় শুধু কর্নাটকেই পাড়ি দিয়েছেন রাহুল। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের বছর খানেক আগে দক্ষিণের রাজ্যে এই জয় যে কংগ্রেসকে নতুন করে শক্তি জোগাল, এ কথা বলাই যায়।

সূত্র : এবিপি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কর্নাটকে কংগ্রেসের জয়: ভারতের দক্ষিণাঞ্চল ‘বিজেপিমুক্ত’

আপডেট সময় : ১০:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩

কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন ছিল ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ও কংগ্রেসের ‘অগ্নি পরীক্ষা’। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির কাছে পরীক্ষা ছিল কর্নাটক জয়ের মাধ্যমে লোকসভা ভোটের আগে দাক্ষিণাত্যে ক্ষমতা বিস্তার করা। কংগ্রেসের কাছে লড়াইটা ছিল অস্তিত্ব রক্ষার। শেষ হাসি হাসল ভারতের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল। কর্নাটকে হেরে যাওয়ায় বস্তুত গোটা দক্ষিণ ভারত এখন ‘বিজেপিমুক্ত’। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার পর, এই প্রথম দেশটির কোনো বড় রাজ্যে ভোট হলো। সেই ভোটে জয়ের পর কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা যে উজ্জীবিত হবেন, তা বলাই বাহুল্য।

দক্ষিণ ভারতের পাঁচ রাজ্য— অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, কেরেলা, তামিলনাড়ু ও তেলঙ্গানার মধ্যে শুধুমাত্র কর্নাটকে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে সরকারে রয়েছে বিজেপি সমর্থিত এনআর কংগ্রেস। তাই কর্নাটক ছিল নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটপ্রচারে বারবার কর্নাটকে সভা করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হিন্দুত্বের প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু অধ্যুষিত কর্নাটকে মোদির কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়েছে রাষ্ট্রপ্রেম ও উন্নয়নের কথা। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে কাজ করল না ‘মোদি-ম্যাজিক’। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্নাটকের ২২৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস এগিয়ে ১৩৪টিতে এবং বিজেপি মাত্র ৬৫টিতে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, কর্নাটকে সাম্প্রতিক অতীতে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নেই। তবে কর্নাটকের রাজনীতিতে হিন্দুদের দু’টি প্রধান সম্প্রদায়, লিঙ্গায়েত এবং ভোক্কালিগাদের দ্বন্দ্ব বরাবরই প্রকট। সে দিকে নজর ছিল বিজেপির। লিঙ্গায়েতদের কিছুটা সমর্থন বিজেপির পক্ষে ছিলই। কিন্তু ভোক্কালিগাদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব বেশ কম।

ভোটের প্রচারে হিন্দুত্বের তাস না খেললেও হিন্দুত্ববাদীদের মন পেতে চেষ্টার কসুর করেনি বিজেপি। তার বড় উদাহরণ হলো গত বছরের হিজাববিরোধী আন্দোলন। এ হিজাব ইস্যুতে আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কর্নাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ হয়। শুধু তাই নয়, কর্নাটকে হালাল মাংস বিক্রি নিষিদ্ধের দাবিতে ২০২২ সালে শোরগোল শুরু হয়। শ্রীরাম সেনা, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ বেদিকের মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবির পর কর্নাটক বিধানসভায় বিল আনারও প্রস্তুতি নেয় বিজেপি সরকার।

অন্যদিকে, কর্নাটকে কংগ্রেসের জয়ের নেপথ্যে ‘নতুন’ সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের ভূমিকাও বড় হয়ে উঠেছে। একের পর এক নির্বাচন হেরে চলা শতাব্দীপ্রাচীন দলের সভাপতি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দুই রাজ্যের কুর্সিতে বসল কংগ্রেস। প্রথমে হিমাচল প্রদেশ এবং এবার কর্নাটক। লাগাতার নিজের রাজ্যে কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারকে নিয়ে পর পর সভা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। বস্তুত, তিনি সভাপতি হওয়া ইস্তক পরাজয় এসেছে শুধু মোদি ও শাহের রাজ্য গুজরাটে। তবে লক্ষ্য যে ‘বড়’ তা বুঝিয়ে দেন খড়গে। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই কর্নাটকবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আরও অনেক দূর যেতে হবে। ভালো কাজ করলে মানুষ পাশে থাকবেই।’’

‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার একটা দীর্ঘ সময় শুধু কর্নাটকেই পাড়ি দিয়েছেন রাহুল। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের বছর খানেক আগে দক্ষিণের রাজ্যে এই জয় যে কংগ্রেসকে নতুন করে শক্তি জোগাল, এ কথা বলাই যায়।

সূত্র : এবিপি