ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কনকনে শীতে বোরো রোপনের মহোৎসব

সেলিম সানোয়ার পলাশ//
  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়া কৃষকদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে এখন বোরো ধানের চারা রোপনের মহোৎসব। উত্তরের হিমেল হাওয়া, হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ। তবে তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়া থাকলেও ঘনকুয়াশা ২/৩ দিন থেকে কিছুটা কম থাকায় পুরোদমে বোরো ধানের চারা রোপনে ও জমি তৈরীতে ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে চাষিদের।
ইতিমধ্যে নানা সমস্যার মধ্যেও বোরো চারা রোপনের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। এখন গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপনের কাজ চলছে। কোনো জমিতে চলছে হাল চাষ আবার কোন জমিতে চলছে ধানের চারা রোপন সব মিলিয়ে মাঠে মাঠে জোরেশোরে চলছে বোরো ধান চাষের কাজ।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবার বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর বোরো চাষ হয়েয়ে ছিল ১৬ হাজার ২শ’ হেক্টোর।
তবে এবার অনুকুল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তার কারণে লক্ষমাত্রার চেয়ে আরো দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামের কৃষক ইমরান বলে, প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশাকে উপেক্ষা করে জমি তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ। আর দুই তিন দিনের মধ্যে জমিতে ধানের চারা রোপনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কৃষক সাজাহান বলেন, আগাম পৌষ মাসে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করায় কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও গন কুয়াশায় ধান গাছ হলুদ হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপন কিছুটা আগাম হওয়ায় এ অবস্থায় পড়তে হয়েছে। এতে করে ফলনও একটু ব্যাহত হতে পারে।
কৃষক লালু বলেন, প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে বীজতলায় ধানের চারা হুলুদ হয়ে গিয়েছিল। প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে কৃষকরা মাঠে নামতে পারেননি। দুই তিন দিন থেকে কুয়াশা একটু কম হওয়ায় জমি তৈরীর পাশাপাশি বীজতলা থেকে কিছুটা নষ্ট হলেও হলুদ ধানের চারা তুলেই চলছে জমিতে চারা রোপনের কাজ।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পুরোদমে মাঠ জুড়ে চলছে জমি তৈরী ও চারা রোপনের কাজ। কৃষকদের মাঝে নেই কোন ফুরশোত। সবাই পার করছে ব্যাস্ত সময়। মাঠ জুড়ে ধানের চারা রোপনের কাজে পুরুষ শ্রমিকদের সাথে পাল্লা দিয়ে নারি শ্রমিকরাও কাজ করে যাচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলায় রয়েছে আদিবাসীদের বসবাস। এতে করে এ উপজেলায় নারি শ্রমিক খুব সহজেই পাওয়া যায়। ধানের চারা রোপনের কাজ পুরুষ শ্রমিকদের চাইতে নারি শ্রমিকরা তুলনা মুলক ভাল করে। নারি শ্রমীকরা ভালো করলেও কিছুটা বৈষম্যর শিকার হচ্ছে তারা। পুরুষ শ্রমিকের তুলনাই নারি শ্রমিকরা কিছুটা মুজরী কম পাচ্ছে।
উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বিদিরপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা উপজেলার কৃষকদের বোরো বীজতলা তৈরি করা থেকে শুরু করে জমিতে চারা রোপন করা পর্যন্ত সকল পরামর্শ প্রদান করে আসছি। ধানের চারা রোপনের ক্ষেত্রে লাইন করে পার্চিং পদ্ধতিতে চারা রোপনের পরার্মশ দিচ্ছি। কৃষকদের সচেতন করতে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক এর পাশাপাশি মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে থেকে শতভাগ লাইন করে পার্চিং পদ্ধতিতে চারা রোপনের পরার্মশসহ সকল প্রকারের সহযোগিতায় করে যাচ্ছি। শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় স্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাবহার ও বীজতলায় সন্ধ্যায় টিউবয়েলের গরম পানি দিতে এবং সকালে বীজ তলা থেকে পানি বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ব্লকে ৬৩৫ হেক্টোর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে চারা রোপন করা হয়েছে। এখনো অনেক জমিতে সরিষা রয়েছে। সরিষা তুলে ওই জমিতে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপন করবে। আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ব্লকে শতভাগ চারা রোপন হবে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এবার বোরো চাষে কৃষক লাভবান হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের সচেতন করতে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক এর পাশাপাশি মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের স্বচ্ছ পলিথিন, টিউবয়েলের গরম পানির ব্যাবহার, বীজতলায় জ্জ ইঞ্চি পানি রাখাসহ সকল প্রকারের পরার্মশ দেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে বীজতলার তেমন একটা ক্ষতি না হওয়ায় উপজেলার কৃষকেরা অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। তিনি আরোও জানান, উপজেলায় চলতি বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে বোরো ধান রোপন করা সম্পন্ন হয়েছে। অতিদ্রুত পুরো উপজেলার প্রতিটা মাঠের জমিতে বোরো ধান রোপন করা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কনকনে শীতে বোরো রোপনের মহোৎসব

আপডেট সময় : ০৩:৪০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়া কৃষকদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে এখন বোরো ধানের চারা রোপনের মহোৎসব। উত্তরের হিমেল হাওয়া, হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ। তবে তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়া থাকলেও ঘনকুয়াশা ২/৩ দিন থেকে কিছুটা কম থাকায় পুরোদমে বোরো ধানের চারা রোপনে ও জমি তৈরীতে ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে চাষিদের।
ইতিমধ্যে নানা সমস্যার মধ্যেও বোরো চারা রোপনের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। এখন গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপনের কাজ চলছে। কোনো জমিতে চলছে হাল চাষ আবার কোন জমিতে চলছে ধানের চারা রোপন সব মিলিয়ে মাঠে মাঠে জোরেশোরে চলছে বোরো ধান চাষের কাজ।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবার বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর বোরো চাষ হয়েয়ে ছিল ১৬ হাজার ২শ’ হেক্টোর।
তবে এবার অনুকুল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তার কারণে লক্ষমাত্রার চেয়ে আরো দেড় হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামের কৃষক ইমরান বলে, প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশাকে উপেক্ষা করে জমি তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ। আর দুই তিন দিনের মধ্যে জমিতে ধানের চারা রোপনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কৃষক সাজাহান বলেন, আগাম পৌষ মাসে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করায় কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও গন কুয়াশায় ধান গাছ হলুদ হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপন কিছুটা আগাম হওয়ায় এ অবস্থায় পড়তে হয়েছে। এতে করে ফলনও একটু ব্যাহত হতে পারে।
কৃষক লালু বলেন, প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে বীজতলায় ধানের চারা হুলুদ হয়ে গিয়েছিল। প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে কৃষকরা মাঠে নামতে পারেননি। দুই তিন দিন থেকে কুয়াশা একটু কম হওয়ায় জমি তৈরীর পাশাপাশি বীজতলা থেকে কিছুটা নষ্ট হলেও হলুদ ধানের চারা তুলেই চলছে জমিতে চারা রোপনের কাজ।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পুরোদমে মাঠ জুড়ে চলছে জমি তৈরী ও চারা রোপনের কাজ। কৃষকদের মাঝে নেই কোন ফুরশোত। সবাই পার করছে ব্যাস্ত সময়। মাঠ জুড়ে ধানের চারা রোপনের কাজে পুরুষ শ্রমিকদের সাথে পাল্লা দিয়ে নারি শ্রমিকরাও কাজ করে যাচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলায় রয়েছে আদিবাসীদের বসবাস। এতে করে এ উপজেলায় নারি শ্রমিক খুব সহজেই পাওয়া যায়। ধানের চারা রোপনের কাজ পুরুষ শ্রমিকদের চাইতে নারি শ্রমিকরা তুলনা মুলক ভাল করে। নারি শ্রমীকরা ভালো করলেও কিছুটা বৈষম্যর শিকার হচ্ছে তারা। পুরুষ শ্রমিকের তুলনাই নারি শ্রমিকরা কিছুটা মুজরী কম পাচ্ছে।
উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বিদিরপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা উপজেলার কৃষকদের বোরো বীজতলা তৈরি করা থেকে শুরু করে জমিতে চারা রোপন করা পর্যন্ত সকল পরামর্শ প্রদান করে আসছি। ধানের চারা রোপনের ক্ষেত্রে লাইন করে পার্চিং পদ্ধতিতে চারা রোপনের পরার্মশ দিচ্ছি। কৃষকদের সচেতন করতে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক এর পাশাপাশি মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে থেকে শতভাগ লাইন করে পার্চিং পদ্ধতিতে চারা রোপনের পরার্মশসহ সকল প্রকারের সহযোগিতায় করে যাচ্ছি। শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় স্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাবহার ও বীজতলায় সন্ধ্যায় টিউবয়েলের গরম পানি দিতে এবং সকালে বীজ তলা থেকে পানি বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ব্লকে ৬৩৫ হেক্টোর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে চারা রোপন করা হয়েছে। এখনো অনেক জমিতে সরিষা রয়েছে। সরিষা তুলে ওই জমিতে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপন করবে। আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ব্লকে শতভাগ চারা রোপন হবে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এবার বোরো চাষে কৃষক লাভবান হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের সচেতন করতে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক এর পাশাপাশি মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের স্বচ্ছ পলিথিন, টিউবয়েলের গরম পানির ব্যাবহার, বীজতলায় জ্জ ইঞ্চি পানি রাখাসহ সকল প্রকারের পরার্মশ দেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে বীজতলার তেমন একটা ক্ষতি না হওয়ায় উপজেলার কৃষকেরা অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। তিনি আরোও জানান, উপজেলায় চলতি বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে বোরো ধান রোপন করা সম্পন্ন হয়েছে। অতিদ্রুত পুরো উপজেলার প্রতিটা মাঠের জমিতে বোরো ধান রোপন করা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি।