ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কমিটির যাত্রা শুরু চালের বস্তায় দামসহ থাকতে হবে সব তথ্য, পরিপত্র জারি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০ হাজারে শীর্ষে বাবর অমর একুশে ময়মনসিংহে শহীদ বেদীতে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন ইইউ’র স্মার্ট হতে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে তা ঠিক নয়: প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের স্মরণে দেশের প্রথম শহীদ মিনারে আরসিআরইউ’র শ্রদ্ধা স্মার্ট ত্রিশাল উপজেলা গড়তে জনগণের সেবক হতে চান’যুবনেতা জুয়েল সরকার পুঠিয়ায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত চুরির অপবাদ সইতে না পেরে পুঠিয়ায় নৈশ্য প্রহোরীর আত্মহত্যা

এবনে গোলাম সামাদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক//
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

বিশিষ্টবুদ্ধিজীবী ও স্বদেশপন্তীচিন্তক এবনে গোলাম সামাদের ৯৪ তম জন্মবার্ষিকী কাল। তিনি ১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকরেন। পিতা- মৌলবী মো. ইয়াসিন, মাতা-নছিরন নেসা।

এবনে গোলাম সামাদ উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও রাজনীতি-অর্থনীতি, ভাষা-সংস্কৃতি, নৃতত্ত্ব-ইতিহাস ও সাহিত্য-শিল্পকলায় ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। এ-সব বিষয়ে তাঁর লেখালেখির পরিমাণ বিপুল এবং মননশীলতায় ঋদ্ধ। পরিণত বয়সে তিনি ইতিহাসের অমূল্য উপাদান অনুসন্ধান ও উপস্থাপন এবং তার ভিত্তিতে নতুন বয়ান হাজির করেন মুক্তচিন্তা, বস্তুনিষ্ঠা ও গভীর ইতিহাস চেতনা তাঁকে পাঠক মহলে জনপ্রিয় করে তোলে। নৈর্ব্যক্তিকতা এবং রাজনৈতিক ও দলীয় আনুগত্যহীনতা বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক হিসেবে তাঁকে বিশিষ্ট করে তোলে। দেশপ্রেম, আত্ম পরিচয়ের অনুসন্ধান ও বাংলাদেশ কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনন্য করেছে।

তিনি ১৯৬৩ সালে ফ্রান্সের পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবাণুতত্ত্বের ওপরে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। লেখালেখির সূচনা তরুণ বয়সেই। সিকান্দার আবুজাফর সম্পাদিত জনপ্রিয় মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সমকাল-এ লেখালেখির মধ্য দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। এছাড়াও লিখেছেন মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত, জয়বাংলা, সংগ্রাম, ইনকিলাব, পালাবদল, অঙ্গীকার ডাইজেস্ট, আমার দেশ ও নয়াদিগন্তের মত জনপ্রিয় পত্রিকায়। তাঁর সর্বাধিক আলোচিতগ্রন্থ ‘আত্মপরিচয়ের সন্ধানে’; বাংলাদেশের শিকড়ের সন্ধানী ইতিহাসের আকরগ্রন্থ’ হিসাবে সমাদৃত। ‘নৃতত্ত্ব’, ‘নৃতত্ত্বের প্রথমপাঠ’, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি’-এই গ্রন্থ’ তিনটি নৃতাত্ত্বিক ভাবে বাংলাদেশের মানুষের উৎপত্তির ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

‘শিল্পকলার ইতিকথা’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম শিল্পকলার ওপরে বই বলে অনেকে মনেকরে থাকেন। শিল্পকলার ওপরে তিনি আরো লিখেছেন ‘ইসলামীশিল্পকলা’এবং‘মানুষ ও তারশিল্পকলা’নামে অনন্য দুটিগ্রন্থ’। যা বিশ্ববিদ্যালয় সমূহপাঠ্য।

তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটিগ্রন্থ’ হলো ‘বাংলাদেশে ইসলাম’। প্রচলিত ইতিহাস পরিকাঠামোর ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে ইসলামকে বোঝার অনন্য গ্রন্থ’ এটি। ‘বর্তমানবিশ্ব ও মার্কসবাদ’গ্রন্থ’ কালমার্কসের চিন্তার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ’ ‘বায়ান্ন থেকে একাত্তর’। এটিভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপরে লিখা কলাম সংকলন। এতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য হাজির করেছেন। যা অনুসন্ধানী পাঠককে আকৃষ্ট করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এবনে গোলাম সামাদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী কাল

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২

বিশিষ্টবুদ্ধিজীবী ও স্বদেশপন্তীচিন্তক এবনে গোলাম সামাদের ৯৪ তম জন্মবার্ষিকী কাল। তিনি ১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকরেন। পিতা- মৌলবী মো. ইয়াসিন, মাতা-নছিরন নেসা।

এবনে গোলাম সামাদ উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও রাজনীতি-অর্থনীতি, ভাষা-সংস্কৃতি, নৃতত্ত্ব-ইতিহাস ও সাহিত্য-শিল্পকলায় ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। এ-সব বিষয়ে তাঁর লেখালেখির পরিমাণ বিপুল এবং মননশীলতায় ঋদ্ধ। পরিণত বয়সে তিনি ইতিহাসের অমূল্য উপাদান অনুসন্ধান ও উপস্থাপন এবং তার ভিত্তিতে নতুন বয়ান হাজির করেন মুক্তচিন্তা, বস্তুনিষ্ঠা ও গভীর ইতিহাস চেতনা তাঁকে পাঠক মহলে জনপ্রিয় করে তোলে। নৈর্ব্যক্তিকতা এবং রাজনৈতিক ও দলীয় আনুগত্যহীনতা বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক হিসেবে তাঁকে বিশিষ্ট করে তোলে। দেশপ্রেম, আত্ম পরিচয়ের অনুসন্ধান ও বাংলাদেশ কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনন্য করেছে।

তিনি ১৯৬৩ সালে ফ্রান্সের পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবাণুতত্ত্বের ওপরে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। লেখালেখির সূচনা তরুণ বয়সেই। সিকান্দার আবুজাফর সম্পাদিত জনপ্রিয় মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সমকাল-এ লেখালেখির মধ্য দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। এছাড়াও লিখেছেন মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত, জয়বাংলা, সংগ্রাম, ইনকিলাব, পালাবদল, অঙ্গীকার ডাইজেস্ট, আমার দেশ ও নয়াদিগন্তের মত জনপ্রিয় পত্রিকায়। তাঁর সর্বাধিক আলোচিতগ্রন্থ ‘আত্মপরিচয়ের সন্ধানে’; বাংলাদেশের শিকড়ের সন্ধানী ইতিহাসের আকরগ্রন্থ’ হিসাবে সমাদৃত। ‘নৃতত্ত্ব’, ‘নৃতত্ত্বের প্রথমপাঠ’, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি’-এই গ্রন্থ’ তিনটি নৃতাত্ত্বিক ভাবে বাংলাদেশের মানুষের উৎপত্তির ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

‘শিল্পকলার ইতিকথা’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম শিল্পকলার ওপরে বই বলে অনেকে মনেকরে থাকেন। শিল্পকলার ওপরে তিনি আরো লিখেছেন ‘ইসলামীশিল্পকলা’এবং‘মানুষ ও তারশিল্পকলা’নামে অনন্য দুটিগ্রন্থ’। যা বিশ্ববিদ্যালয় সমূহপাঠ্য।

তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটিগ্রন্থ’ হলো ‘বাংলাদেশে ইসলাম’। প্রচলিত ইতিহাস পরিকাঠামোর ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে ইসলামকে বোঝার অনন্য গ্রন্থ’ এটি। ‘বর্তমানবিশ্ব ও মার্কসবাদ’গ্রন্থ’ কালমার্কসের চিন্তার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ’ ‘বায়ান্ন থেকে একাত্তর’। এটিভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপরে লিখা কলাম সংকলন। এতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য হাজির করেছেন। যা অনুসন্ধানী পাঠককে আকৃষ্ট করে।