ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

এবনে গোলাম সামাদের জন্মদিন আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক//
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৯ বার পড়া হয়েছে

বিশিষ্ট পন্ডিত, চিন্তাবিদ, বহুমাত্রিক লেখক, কলামিস্ট বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও স্বদেশপন্থী চিন্তক এবনে গোলাম সামাদের ৯৫ তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- মৌলবী মো. ইয়াসিন, মাতা- নছিরন নেসা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন।
এবনে গোলাম সামাদ উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও রাজনীতি-অর্থনীতি, ভাষা-সংস্কৃতি, নৃতত্ত্ব-ইতিহাস ও সাহিত্য-শিল্পকলায় ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। এ-সব বিষয়ে তাঁর লেখালেখির পরিমাণ বিপুল এবং মননশীলতায় ঋদ্ধ। পরিণত বয়সে তিনি ইতিহাসের অমূল্য উপাদান অনুসন্ধান ও উপস্থাপন এবং তার ভিত্তিতে নতুন বয়ান হাজির করেন মুক্তচিন্তা, বস্তুনিষ্ঠা ও গভীর ইতিহাসচেতনা তাঁকে পাঠকমহলে জনপ্রিয় করে তোলে। নৈর্ব্যক্তিকতা এবং রাজনৈতিক ও দলীয় আনুগত্যহীনতা বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক হিসেবে তাঁকে বিশিষ্ট করে তোলে। দেশপ্রেম, আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান ও বাংলাদেশকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনন্য করেছে।
তিনি ১৯৬৩ সালে ফ্রান্সের পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবাণুতত্বের ওপরে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। লেখালেখির সূচনা তরুণ বয়সেই। সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত জনপ্রিয় মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সমকাল-এ লেখালেখির মধ্য দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। এছাড়াও লিখেছেন মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত, জয় বাংলা, সংগ্রাম , ইনকিলাব, পালাবদল, অঙ্গীকার ডাইজেস্ট, আমার দেশ ও নয়াদিগন্তের মত জনপ্রিয় পত্রিকায়। তিনি জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদকত্ত ছিলেন। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত গ্রন্থ ‘আত্মপরিচয়ের সন্ধানে’; বাংলাদেশের শিকড়ের সন্ধানী ইতিহাসের আকরগ্রন্থ হিসাবে সমাদৃত। ‘নৃতত্ব’, ‘নৃতত্ব প্রথম পাঠ’, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি’-এই গ্রন্থ তিনটিতে নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষের উৎপত্তির ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।
‘শিল্পকলার ইতিকথা’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম শিল্পকলার ওপরে বই বলে অনেকে মনে করে থাকেন। শিল্পকলার ওপরে তিনি আরো লিখেছেন ‘ইসলামী শিল্পকলা’ এবং ‘মানুষ ও তার শিল্পকলা’ নামে অনন্য দুটি গ্রন্থ। যা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ পাঠ্য।
তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি গ্রন্থ হলো ‘বাংলাদেশে ইসলাম’। প্রচলিত ইতিহাস পরিকাঠামোর ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে ইসলামকে বোঝার অনন্য গ্রন্থ এটি। ‘বর্তমান বিশ্ব ও মার্কসবাদ’ গ্রন্থ কাল মার্কসের চিন্তার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘বায়ান্ন থেকে একাত্তর’। এটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপরে লিখা কলাম সংকলন। এতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য হাজির করেছেন। যা অনুসন্ধানী পাঠককে আকৃষ্ট করে। এবনে গোলাম সামাদ দৈনিব বার্তার সাংবাদিক আল-ফাত্তা সামাদের পিতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এবনে গোলাম সামাদের জন্মদিন আগামীকাল

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

বিশিষ্ট পন্ডিত, চিন্তাবিদ, বহুমাত্রিক লেখক, কলামিস্ট বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও স্বদেশপন্থী চিন্তক এবনে গোলাম সামাদের ৯৫ তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- মৌলবী মো. ইয়াসিন, মাতা- নছিরন নেসা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন।
এবনে গোলাম সামাদ উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও রাজনীতি-অর্থনীতি, ভাষা-সংস্কৃতি, নৃতত্ত্ব-ইতিহাস ও সাহিত্য-শিল্পকলায় ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। এ-সব বিষয়ে তাঁর লেখালেখির পরিমাণ বিপুল এবং মননশীলতায় ঋদ্ধ। পরিণত বয়সে তিনি ইতিহাসের অমূল্য উপাদান অনুসন্ধান ও উপস্থাপন এবং তার ভিত্তিতে নতুন বয়ান হাজির করেন মুক্তচিন্তা, বস্তুনিষ্ঠা ও গভীর ইতিহাসচেতনা তাঁকে পাঠকমহলে জনপ্রিয় করে তোলে। নৈর্ব্যক্তিকতা এবং রাজনৈতিক ও দলীয় আনুগত্যহীনতা বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক হিসেবে তাঁকে বিশিষ্ট করে তোলে। দেশপ্রেম, আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান ও বাংলাদেশকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনন্য করেছে।
তিনি ১৯৬৩ সালে ফ্রান্সের পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবাণুতত্বের ওপরে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। লেখালেখির সূচনা তরুণ বয়সেই। সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত জনপ্রিয় মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সমকাল-এ লেখালেখির মধ্য দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। এছাড়াও লিখেছেন মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত, জয় বাংলা, সংগ্রাম , ইনকিলাব, পালাবদল, অঙ্গীকার ডাইজেস্ট, আমার দেশ ও নয়াদিগন্তের মত জনপ্রিয় পত্রিকায়। তিনি জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদকত্ত ছিলেন। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত গ্রন্থ ‘আত্মপরিচয়ের সন্ধানে’; বাংলাদেশের শিকড়ের সন্ধানী ইতিহাসের আকরগ্রন্থ হিসাবে সমাদৃত। ‘নৃতত্ব’, ‘নৃতত্ব প্রথম পাঠ’, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি’-এই গ্রন্থ তিনটিতে নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষের উৎপত্তির ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।
‘শিল্পকলার ইতিকথা’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম শিল্পকলার ওপরে বই বলে অনেকে মনে করে থাকেন। শিল্পকলার ওপরে তিনি আরো লিখেছেন ‘ইসলামী শিল্পকলা’ এবং ‘মানুষ ও তার শিল্পকলা’ নামে অনন্য দুটি গ্রন্থ। যা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ পাঠ্য।
তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি গ্রন্থ হলো ‘বাংলাদেশে ইসলাম’। প্রচলিত ইতিহাস পরিকাঠামোর ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে ইসলামকে বোঝার অনন্য গ্রন্থ এটি। ‘বর্তমান বিশ্ব ও মার্কসবাদ’ গ্রন্থ কাল মার্কসের চিন্তার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘বায়ান্ন থেকে একাত্তর’। এটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপরে লিখা কলাম সংকলন। এতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য হাজির করেছেন। যা অনুসন্ধানী পাঠককে আকৃষ্ট করে। এবনে গোলাম সামাদ দৈনিব বার্তার সাংবাদিক আল-ফাত্তা সামাদের পিতা।