ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কমিটির যাত্রা শুরু চালের বস্তায় দামসহ থাকতে হবে সব তথ্য, পরিপত্র জারি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০ হাজারে শীর্ষে বাবর অমর একুশে ময়মনসিংহে শহীদ বেদীতে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন ইইউ’র স্মার্ট হতে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে তা ঠিক নয়: প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের স্মরণে দেশের প্রথম শহীদ মিনারে আরসিআরইউ’র শ্রদ্ধা স্মার্ট ত্রিশাল উপজেলা গড়তে জনগণের সেবক হতে চান’যুবনেতা জুয়েল সরকার পুঠিয়ায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত চুরির অপবাদ সইতে না পেরে পুঠিয়ায় নৈশ্য প্রহোরীর আত্মহত্যা

এক কেজি গাঁজা পাচারের দায়ে সিঙ্গাপুরে ফাঁসি কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ৫২ বার পড়া হয়েছে

গাঁজা পাচারের অভিযোগে তাঙ্গারাজু সুপিয়াহর নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। ক্ষমা প্রার্থনার পরও বুধবার ভোরে চাঙ্গি কারাগারে তার ফাঁসি দেয়া হয়। সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এমন খবর উঠে এসেছে। ফাঁসি কার্যকর হওয়া ওই ব্যক্তিকে মাত্র ২.২ পাউন্ড বা এক কেজি গাঁজা পরিবহনের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।
তাঙ্গারাজু সুপিয়াহর পরিবার তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে। বুধবার, তাঙ্গারাজু পরিবার তার মরদেহ গ্রহণ করতে পূর্বে শহরের বিমানবন্দরের কাছে চাঙ্গি কারাগারে জড়ো হয়েছিল। তখন কারাগার থেকে পরিবারের হাতে একটি মৃত্যু সনদ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঙ্গারাজুর বোন লীলাবতী সুপিয়াহ।

তাঙ্গারাজুর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তিনি কখনো ওই মাদক স্পর্শ করেননি এবং তার কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়াও যায়নি। তবে আদালতের বিচারক জানান, তদন্তে পাওয়া গেছে তাঙ্গারাজু এরসঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ফোন কলের ইতিহাস ঘেঁটে এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এদিকে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি (তাঙ্গারাজু সুপিয়াহ) দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিচার চলাকালীন আইনি কার্যক্রম সীমিত ছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই এই সাজা কার্যকর হয়েছে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলায় কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনাও করেছে। সিঙ্গাপুরে আইন অনুযায়ী মাদক পাচারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বহনকারীদের জন্য শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম। সর্বশেষ আপিলে বিচারক প্রসিকিউশনের সঙ্গে একমত হন যে, তাঙ্গারাজু ডেলিভারি সমন্বয় করেছিলেন, যা তাকে আরও কম শাস্তির জন্য অনুপযোগী করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে বিশ্বের কিছু কঠোর মাদক অপরাধ সংক্রান্ত আইন রয়েছে। দেশটি বলে থাকে, সমাজ রক্ষায় এসব আইন অতিপ্রয়োজনীয়। গত বছর দেশটি মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সহ ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিবেশী মালয়েশিয়া এই মাসের শুরুতে বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে বলেছে, এটি অপরাধের জন্য কার্যকর প্রতিবন্ধক নয়। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় গাঁজাকে অপরাধমূলক করা হয়েছে, যেখানে এর বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এক কেজি গাঁজা পাচারের দায়ে সিঙ্গাপুরে ফাঁসি কার্যকর

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

গাঁজা পাচারের অভিযোগে তাঙ্গারাজু সুপিয়াহর নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। ক্ষমা প্রার্থনার পরও বুধবার ভোরে চাঙ্গি কারাগারে তার ফাঁসি দেয়া হয়। সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এমন খবর উঠে এসেছে। ফাঁসি কার্যকর হওয়া ওই ব্যক্তিকে মাত্র ২.২ পাউন্ড বা এক কেজি গাঁজা পরিবহনের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।
তাঙ্গারাজু সুপিয়াহর পরিবার তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে। বুধবার, তাঙ্গারাজু পরিবার তার মরদেহ গ্রহণ করতে পূর্বে শহরের বিমানবন্দরের কাছে চাঙ্গি কারাগারে জড়ো হয়েছিল। তখন কারাগার থেকে পরিবারের হাতে একটি মৃত্যু সনদ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঙ্গারাজুর বোন লীলাবতী সুপিয়াহ।

তাঙ্গারাজুর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তিনি কখনো ওই মাদক স্পর্শ করেননি এবং তার কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়াও যায়নি। তবে আদালতের বিচারক জানান, তদন্তে পাওয়া গেছে তাঙ্গারাজু এরসঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ফোন কলের ইতিহাস ঘেঁটে এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এদিকে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি (তাঙ্গারাজু সুপিয়াহ) দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিচার চলাকালীন আইনি কার্যক্রম সীমিত ছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই এই সাজা কার্যকর হয়েছে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলায় কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনাও করেছে। সিঙ্গাপুরে আইন অনুযায়ী মাদক পাচারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বহনকারীদের জন্য শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম। সর্বশেষ আপিলে বিচারক প্রসিকিউশনের সঙ্গে একমত হন যে, তাঙ্গারাজু ডেলিভারি সমন্বয় করেছিলেন, যা তাকে আরও কম শাস্তির জন্য অনুপযোগী করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে বিশ্বের কিছু কঠোর মাদক অপরাধ সংক্রান্ত আইন রয়েছে। দেশটি বলে থাকে, সমাজ রক্ষায় এসব আইন অতিপ্রয়োজনীয়। গত বছর দেশটি মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সহ ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিবেশী মালয়েশিয়া এই মাসের শুরুতে বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে বলেছে, এটি অপরাধের জন্য কার্যকর প্রতিবন্ধক নয়। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় গাঁজাকে অপরাধমূলক করা হয়েছে, যেখানে এর বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা হয়।