ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আধা ঘণ্টার পরিচয়, যাত্রীকে কিডনি দিলেন উবার চালক!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

উবার চালকদের বিরুদ্ধে প্রায়ই নানা অভিযোগ ওঠে। তাদের দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হয়ে থাকেন বহু যাত্রী। কিন্তু এবার উবারের চালকের জন্যই প্রাণে বাঁচলেন এক যাত্রী। না, নিছক পথের কোনও সমস্যা থেকে তিনি যাত্রীকে রক্ষা করেননি। সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা, সম্পর্কহীন সেই যাত্রীর জন্য ওই চালক দান করে দিয়েছেন নিজের একটি কিডনি!

অবিশ্বাস্য এই ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সেখানকার বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সি বিল সামিয়েল। তিনি কয়েক বছর ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছেন। চিকিৎসকরা জানান, বিলের একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। কিডনি প্রতিস্থাপন করানো ছাড়া আর উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে গত তিন বছর ধরে কিডনিদাতা খুঁজেছেন বিল, কাউকেই পাননি। নিয়মিত ডায়ালিসিস করে করে কোনও রকমে দিন কাটছিল তার।

একদিন ডায়ালিসিস করাতে গিয়ে যে তার জীবনটাই বদলে যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি বিল। অন্যদিনের মতোই ডায়ালিসিস সেরে, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বিল। এজন্য উবার অ্যাপের মাধ্যমে নিয়েছিলেন গাড়ি। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৩৫ বছরের যুবক টিম লেটস। তিনি সাবেক সেনা সদস্য, এখন মাছের ব্যবসা করেন। অবসরে চালান উবার।

তার গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে কথাচ্ছলেই নিজের অসুস্থতার কথা চালককে জানান বিল। কিডনির প্রয়োজনের কথাও বলেন, কিডনিদাতা খুঁজছেন বলেও জানান তিনি।

বিলের অসহায়তা, অসুস্থতা হয়তো স্পর্শ করেছিল টিমকে। তিনি নিজেই বলে বসেন, যে সম্ভব হলে তার কিডনিটি দান করতে চান বিলকে। প্রথমে বিশ্বাস করেননি বিল। এমন আবার হয় নাকি! মাত্র এইটুকু পরিচয়ে, কোনও পরিচিতি বা বন্ধুত্ব ছাড়া কেউ কাউকে কিডনি দেয়!

টিম বিলকে ভরসা দিয়ে বলেন, তিনি কথার কথা বলছেন না। সত্যিই তিনি বিলকে দান করতে চান নিজের কিডনি। এই বলে তার ঠিকানা এবং ফোন নম্বরও দেন বিলকে।

বিস্ময়ের প্রাথমিক পর্ব পার করে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিল। জানান, তিনি কিডনিদাতা পেয়েছেন। এবার পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখার পালা। আশ্চর্যজনকভাবে, কিডনি দেওয়ার জন্য যেসব বিষয়ে মিল থাকা প্রয়োজন তার সবই মিলে যায়। এরপরে চিকিৎসকের পরামর্শমতো দু’জনেই হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার হয় তাদের। সফল প্রতিস্থাপনে সুস্থ হয়ে ওঠেন বিল, ফিরে পান নতুন জীবন।

বিল বলেছেন, টিম তারই ছেলে। টিমের সঙ্গে দেখা না হলে এই পৃথিবীতে বেশিদিন বেঁচে থাকতেন না তিনি। অন্যদিকে, পিতৃসম এক ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে পেরে টিমও খুশি। তার জন্য প্রাণে বেঁচে রয়েছেন কোনও মানুষ, এটা টিমের কাছে চরম পরিতৃপ্তি ও স্বস্তির।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আধা ঘণ্টার পরিচয়, যাত্রীকে কিডনি দিলেন উবার চালক!

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩

উবার চালকদের বিরুদ্ধে প্রায়ই নানা অভিযোগ ওঠে। তাদের দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হয়ে থাকেন বহু যাত্রী। কিন্তু এবার উবারের চালকের জন্যই প্রাণে বাঁচলেন এক যাত্রী। না, নিছক পথের কোনও সমস্যা থেকে তিনি যাত্রীকে রক্ষা করেননি। সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা, সম্পর্কহীন সেই যাত্রীর জন্য ওই চালক দান করে দিয়েছেন নিজের একটি কিডনি!

অবিশ্বাস্য এই ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সেখানকার বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সি বিল সামিয়েল। তিনি কয়েক বছর ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছেন। চিকিৎসকরা জানান, বিলের একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। কিডনি প্রতিস্থাপন করানো ছাড়া আর উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে গত তিন বছর ধরে কিডনিদাতা খুঁজেছেন বিল, কাউকেই পাননি। নিয়মিত ডায়ালিসিস করে করে কোনও রকমে দিন কাটছিল তার।

একদিন ডায়ালিসিস করাতে গিয়ে যে তার জীবনটাই বদলে যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি বিল। অন্যদিনের মতোই ডায়ালিসিস সেরে, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বিল। এজন্য উবার অ্যাপের মাধ্যমে নিয়েছিলেন গাড়ি। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৩৫ বছরের যুবক টিম লেটস। তিনি সাবেক সেনা সদস্য, এখন মাছের ব্যবসা করেন। অবসরে চালান উবার।

তার গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে কথাচ্ছলেই নিজের অসুস্থতার কথা চালককে জানান বিল। কিডনির প্রয়োজনের কথাও বলেন, কিডনিদাতা খুঁজছেন বলেও জানান তিনি।

বিলের অসহায়তা, অসুস্থতা হয়তো স্পর্শ করেছিল টিমকে। তিনি নিজেই বলে বসেন, যে সম্ভব হলে তার কিডনিটি দান করতে চান বিলকে। প্রথমে বিশ্বাস করেননি বিল। এমন আবার হয় নাকি! মাত্র এইটুকু পরিচয়ে, কোনও পরিচিতি বা বন্ধুত্ব ছাড়া কেউ কাউকে কিডনি দেয়!

টিম বিলকে ভরসা দিয়ে বলেন, তিনি কথার কথা বলছেন না। সত্যিই তিনি বিলকে দান করতে চান নিজের কিডনি। এই বলে তার ঠিকানা এবং ফোন নম্বরও দেন বিলকে।

বিস্ময়ের প্রাথমিক পর্ব পার করে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিল। জানান, তিনি কিডনিদাতা পেয়েছেন। এবার পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখার পালা। আশ্চর্যজনকভাবে, কিডনি দেওয়ার জন্য যেসব বিষয়ে মিল থাকা প্রয়োজন তার সবই মিলে যায়। এরপরে চিকিৎসকের পরামর্শমতো দু’জনেই হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার হয় তাদের। সফল প্রতিস্থাপনে সুস্থ হয়ে ওঠেন বিল, ফিরে পান নতুন জীবন।

বিল বলেছেন, টিম তারই ছেলে। টিমের সঙ্গে দেখা না হলে এই পৃথিবীতে বেশিদিন বেঁচে থাকতেন না তিনি। অন্যদিকে, পিতৃসম এক ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে পেরে টিমও খুশি। তার জন্য প্রাণে বেঁচে রয়েছেন কোনও মানুষ, এটা টিমের কাছে চরম পরিতৃপ্তি ও স্বস্তির।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট