ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আদালতে যা বললেন কনস্টেবল কাওসার

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪ ১২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ায় কর্তব্যরত অবস্থান পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন তার সহকর্মী কনস্টেবল কাওসার আলী। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকের ওই ঘটনায় সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে।

রোববার (৯ জুন) কনস্টেবল কাওসারকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠুতদন্তে তাকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহাম্মদ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে বিচারক কাওসারকে বলেন, আপনি পালালেন না কেন? জবাবে কাওসার বলেন— আমি তো সরাসরি গুলি করেছি, পালাবো কেন? এ সময় বিচারক তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কাওসারের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না। কাঠগড়ায় থাকা অবস্থায় কাওসার এলোমেলো কথা বলতে থাকেন। অনেকে বলছিলেন, সে এখন মানসিকভাবে অসুস্থ।

এদিকে কনস্টেবল কাওসারের মানসিক অবস্থা নিয়ে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত কাওসার আলীর বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী দাড়ের পাড়া এলাকায়। রোববার (৯ জুন) দুপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক সমস্যা হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কম কথা বলতেন। গেল কয়েক দিনও কম যোগাযোগ করেছেন।

নিলুফার ভাষ্য, স্বামীর ঘটনার বিষয়ে গতকাল শনিবার রাত ৩টার দিকে জানতে পারেন তিনি। ঢাকা থেকে আমজাদ হোসেন নামে পুলিশের এক কর্মকর্তা মোবাইলে বিষয়টি তাকে জানান। এ ঘটনা জানার পর তিনি তার শ্বশুর হায়াত আলীকে জানাননি। তার শ্বশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বয়স ৮০ বছর। ছেলের এ ঘটনা জানলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এ জন্য তাকে জানানো হয়নি। তবে শাশুড়ি মাবিয়া খাতুনকে জানিয়েছেন নিলুফা।

২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি তিনি বিয়ে করেন। বর্তমানে কাওসারের দুই সন্তান। সংসারে কোনো ঝামেলা বা কলহ নেই। নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, শনিবার রাত আটটার দিকে সর্বশেষ কাওসার তার মা–বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তার সঙ্গে কথা হয়েছিল বিকেলের দিকে। সে সময় কাওসার বলেছিলেন, ঈদের ছুটি নেওয়ার জন্য ৪ তারিখ আবেদন করেছেন। এবার ঈদে বাড়িতে আসবেন।

নিলুফা বললেন, ‘কাওসারের মানসিক সমস্যা ছিল। রাঙামাটির বরকলে চাকরি করার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এরপর বিভিন্ন সময় সরকারিভাবেই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অন্তত তিনবার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন। কাওসারের কাছে প্রেসক্রিপশনও আছে।’

তবে কাওসার গুলি করে সহকর্মীকে হত্যা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তার স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার এখনো বিশ্বস হচ্ছে না যে গুলি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাতে পারেন। কীভাবে কী হয়েছে, সেটা বুঝতেছি না।’

নিলুফা জানালেন, কিছুদিন ধরে কাওসার খুবই কম কথা বলতেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। সংসারে কোনো অভাব–অনটন ছিল না। তবে চাকরি নিয়ে খুবই টেনশন করেন তিনি। ছয় ঘণ্টার ডিউটি আট ঘণ্টা হতো। এছাড়া নানা বিষয় নিয়ে তিনি (কাওসার) টেনশন করতেন। এছাড়া তেমন কিছু জানা নেই।

কাওসারের মা মাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আমারা ছেলে এমনিতে খুব ভালো। তার মাথার সমস্যা আছে। সে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অসুস্থ হয়। তার সঙ্গে আমার গতকাল শনিবার রাত ৮টার শেষ কথা হয়। আমার সঙ্গে ভালোভাবেই কথা বলেছে। মা কেমন আছো, আব্বা কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। তবে কয়েক দিন ধরে বাড়িতে একটু কম কথা বলত আমার ছেলে।’

গোলাম মোস্তফা কাওসারের প্রতিবেশী। দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘কাওসার চাকরিতে যোগদানের বছর পর থেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসা করানোর পরে সুস্থ হলে আবার চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।’

শনিবার রাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনের পুলিশবক্সে ডিউটি করছিলেন পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলাম ও কাওসার আলী। পৌনে রাত সাড়ে ১১টার কিছু সময় আগে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এনিয়ে কনস্টেবল মনিরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন কনস্টেবল কাওসার আলী।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে— রাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনের পুলিশ বক্সে ডিউটি করছিলেন কনস্টেবল কাওসার ও মনিরুল। রাত সাড়ে ১১টার কিছু সময় আগে হঠাৎ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সময় ডিউটি রোস্টারের খাতা নিয়ে কিছু একটা বলতে দেখা যায় তাদের। আচমকা কনস্টেবল কাওসার রোস্টার খাতাটি ছুড়ে মারেন মনিরুলের দিকে।

ফুটেজে আরও দেখা গেছে, মনিরুল পুলিশ বক্স থেকে বাইরে এসে জানালা দিয়ে কথা বলছিলেন কাওসারের সঙ্গে। হঠাৎ কক্ষের ভেতর থেকে মনিরুলকে লক্ষ্য করে গুলি শুরু করেন কনস্টেবল কাওসার। এরপর মনিরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কাওসার বক্স থেকে বেরিয়ে এসে মনিরুলের অস্ত্রটি মাটি থেকে তুলে নেন। এরপর কিছুক্ষণ নির্বিকার হয়ে মনিরুলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে এলোপাথাড়ি বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন কনস্টেবল কাওসার। ঘটনার সময় কাওসারের ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে আহত হন জাপান দূতাবাসের একজন গাড়িচালক। পরে কূটনৈতিক এলাকায় দায়িত্বরত অন্য নিরাপত্তা রক্ষীরা ঘটনাস্থলে এসে আধাঘণ্টার চেষ্টায় কাওসারকে আটক করেন এবং তাকে নিরস্ত্র করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আদালতে যা বললেন কনস্টেবল কাওসার

আপডেট সময় : ১১:৩৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ায় কর্তব্যরত অবস্থান পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন তার সহকর্মী কনস্টেবল কাওসার আলী। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকের ওই ঘটনায় সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে।

রোববার (৯ জুন) কনস্টেবল কাওসারকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠুতদন্তে তাকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহাম্মদ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে বিচারক কাওসারকে বলেন, আপনি পালালেন না কেন? জবাবে কাওসার বলেন— আমি তো সরাসরি গুলি করেছি, পালাবো কেন? এ সময় বিচারক তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কাওসারের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না। কাঠগড়ায় থাকা অবস্থায় কাওসার এলোমেলো কথা বলতে থাকেন। অনেকে বলছিলেন, সে এখন মানসিকভাবে অসুস্থ।

এদিকে কনস্টেবল কাওসারের মানসিক অবস্থা নিয়ে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত কাওসার আলীর বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী দাড়ের পাড়া এলাকায়। রোববার (৯ জুন) দুপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক সমস্যা হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কম কথা বলতেন। গেল কয়েক দিনও কম যোগাযোগ করেছেন।

নিলুফার ভাষ্য, স্বামীর ঘটনার বিষয়ে গতকাল শনিবার রাত ৩টার দিকে জানতে পারেন তিনি। ঢাকা থেকে আমজাদ হোসেন নামে পুলিশের এক কর্মকর্তা মোবাইলে বিষয়টি তাকে জানান। এ ঘটনা জানার পর তিনি তার শ্বশুর হায়াত আলীকে জানাননি। তার শ্বশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বয়স ৮০ বছর। ছেলের এ ঘটনা জানলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এ জন্য তাকে জানানো হয়নি। তবে শাশুড়ি মাবিয়া খাতুনকে জানিয়েছেন নিলুফা।

২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি তিনি বিয়ে করেন। বর্তমানে কাওসারের দুই সন্তান। সংসারে কোনো ঝামেলা বা কলহ নেই। নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, শনিবার রাত আটটার দিকে সর্বশেষ কাওসার তার মা–বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তার সঙ্গে কথা হয়েছিল বিকেলের দিকে। সে সময় কাওসার বলেছিলেন, ঈদের ছুটি নেওয়ার জন্য ৪ তারিখ আবেদন করেছেন। এবার ঈদে বাড়িতে আসবেন।

নিলুফা বললেন, ‘কাওসারের মানসিক সমস্যা ছিল। রাঙামাটির বরকলে চাকরি করার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এরপর বিভিন্ন সময় সরকারিভাবেই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অন্তত তিনবার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন। কাওসারের কাছে প্রেসক্রিপশনও আছে।’

তবে কাওসার গুলি করে সহকর্মীকে হত্যা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তার স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার এখনো বিশ্বস হচ্ছে না যে গুলি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাতে পারেন। কীভাবে কী হয়েছে, সেটা বুঝতেছি না।’

নিলুফা জানালেন, কিছুদিন ধরে কাওসার খুবই কম কথা বলতেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। সংসারে কোনো অভাব–অনটন ছিল না। তবে চাকরি নিয়ে খুবই টেনশন করেন তিনি। ছয় ঘণ্টার ডিউটি আট ঘণ্টা হতো। এছাড়া নানা বিষয় নিয়ে তিনি (কাওসার) টেনশন করতেন। এছাড়া তেমন কিছু জানা নেই।

কাওসারের মা মাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আমারা ছেলে এমনিতে খুব ভালো। তার মাথার সমস্যা আছে। সে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অসুস্থ হয়। তার সঙ্গে আমার গতকাল শনিবার রাত ৮টার শেষ কথা হয়। আমার সঙ্গে ভালোভাবেই কথা বলেছে। মা কেমন আছো, আব্বা কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। তবে কয়েক দিন ধরে বাড়িতে একটু কম কথা বলত আমার ছেলে।’

গোলাম মোস্তফা কাওসারের প্রতিবেশী। দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘কাওসার চাকরিতে যোগদানের বছর পর থেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসা করানোর পরে সুস্থ হলে আবার চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।’

শনিবার রাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনের পুলিশবক্সে ডিউটি করছিলেন পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলাম ও কাওসার আলী। পৌনে রাত সাড়ে ১১টার কিছু সময় আগে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এনিয়ে কনস্টেবল মনিরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন কনস্টেবল কাওসার আলী।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে— রাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনের পুলিশ বক্সে ডিউটি করছিলেন কনস্টেবল কাওসার ও মনিরুল। রাত সাড়ে ১১টার কিছু সময় আগে হঠাৎ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সময় ডিউটি রোস্টারের খাতা নিয়ে কিছু একটা বলতে দেখা যায় তাদের। আচমকা কনস্টেবল কাওসার রোস্টার খাতাটি ছুড়ে মারেন মনিরুলের দিকে।

ফুটেজে আরও দেখা গেছে, মনিরুল পুলিশ বক্স থেকে বাইরে এসে জানালা দিয়ে কথা বলছিলেন কাওসারের সঙ্গে। হঠাৎ কক্ষের ভেতর থেকে মনিরুলকে লক্ষ্য করে গুলি শুরু করেন কনস্টেবল কাওসার। এরপর মনিরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কাওসার বক্স থেকে বেরিয়ে এসে মনিরুলের অস্ত্রটি মাটি থেকে তুলে নেন। এরপর কিছুক্ষণ নির্বিকার হয়ে মনিরুলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে এলোপাথাড়ি বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন কনস্টেবল কাওসার। ঘটনার সময় কাওসারের ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে আহত হন জাপান দূতাবাসের একজন গাড়িচালক। পরে কূটনৈতিক এলাকায় দায়িত্বরত অন্য নিরাপত্তা রক্ষীরা ঘটনাস্থলে এসে আধাঘণ্টার চেষ্টায় কাওসারকে আটক করেন এবং তাকে নিরস্ত্র করেন।