ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালায় না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : ০২:২০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, আওয়ামী লীগ পালায় না। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে নিয়ে কাজ করে। দেশের উন্নয়ন করে। তাই আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালাই না। আজ রোববার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জেলা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বিদেশে থাকায় আমরা দুই বোন বেঁচে যাই। আমি জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র রুখে শুধু দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া কেউ এদেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা দেয়নি। আওয়ামী লীগ আজ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। বিএনপি বলে ক্ষমতা গেলে পালানোর সুযোগ পাবেন না। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। পালায় আপনাদের নেতারাই। যেই নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে ভেগে গিয়েছিল, সেই দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত নেতা আজ বড় বড় কথা বলে। বিএনপি-জামায়াতের পাচার হওয়া ৪০ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, রাজশাহী সারাজীবন অবহেলার ছিল। আপনারা এখানে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমরা উন্নয়ন করেছি। রাজশাহীতে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। রাজশাহীতে ৪ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। আজ যে কাজগুলো উদ্বোধন করা হলো এগুলো রাজশাহীবাসীকে আমার উপহার।

এর আগেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আওয়ামী লীগের এ জনসভা। এর আগে রোববার সকাল থেকেই রাজশাহী ও বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকেন।

বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যেই মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে বেলা সাড়ে ১১টার পর আসা নেতাকর্মীরা আর মাঠের ভেতরে ঠুকতে পারেননি। এতে জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে জনসভাস্থলের আশপাশের সড়কগুলোতে। জনস্রোত গিয়ে ঠেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে ঘোষপাড়ার মোড়, পাঠানপাড়া—এমনকি সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে জনসভার পরিসর।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে অবতরণ করেন। সেখানে শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপারদের অনুষ্ঠান শেষে বিকেল তিনটা ১৫ মিনিটে তিনি রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসমাবেশে উপস্থিত হন। এর পর তিনি ৩টা ৫৫ মিনিটে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। প্রায় ২৬ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও রাজশাহীর বিভিন্ন উন্নয়নকাণ্ড তুলে ধরে ধরেন। এছাড়াও বক্তব্য দেয়ার আগে তিনি প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে হেলিকপ্টারে করে নগরীর জেলখানা প্রশিক্ষণ মাঠে নেমে গাড়িতে করে সভামঞ্চে আসেন। তখন ময়দানভর্তি জনতা হাততালি ও স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে জনতার প্রতি শুভেচ্ছা জানান।

মাদ্রাসা মাঠে (বর্তমান হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) রোববার দুপুর ১১. ৫০ মিনিটে জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। এরপর দলের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালায় না : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:২০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩

আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, আওয়ামী লীগ পালায় না। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে নিয়ে কাজ করে। দেশের উন্নয়ন করে। তাই আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালাই না। আজ রোববার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জেলা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বিদেশে থাকায় আমরা দুই বোন বেঁচে যাই। আমি জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র রুখে শুধু দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া কেউ এদেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা দেয়নি। আওয়ামী লীগ আজ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। বিএনপি বলে ক্ষমতা গেলে পালানোর সুযোগ পাবেন না। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। পালায় আপনাদের নেতারাই। যেই নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে ভেগে গিয়েছিল, সেই দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত নেতা আজ বড় বড় কথা বলে। বিএনপি-জামায়াতের পাচার হওয়া ৪০ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, রাজশাহী সারাজীবন অবহেলার ছিল। আপনারা এখানে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমরা উন্নয়ন করেছি। রাজশাহীতে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। রাজশাহীতে ৪ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। আজ যে কাজগুলো উদ্বোধন করা হলো এগুলো রাজশাহীবাসীকে আমার উপহার।

এর আগেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আওয়ামী লীগের এ জনসভা। এর আগে রোববার সকাল থেকেই রাজশাহী ও বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকেন।

বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যেই মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে বেলা সাড়ে ১১টার পর আসা নেতাকর্মীরা আর মাঠের ভেতরে ঠুকতে পারেননি। এতে জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে জনসভাস্থলের আশপাশের সড়কগুলোতে। জনস্রোত গিয়ে ঠেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে ঘোষপাড়ার মোড়, পাঠানপাড়া—এমনকি সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে জনসভার পরিসর।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে অবতরণ করেন। সেখানে শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপারদের অনুষ্ঠান শেষে বিকেল তিনটা ১৫ মিনিটে তিনি রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসমাবেশে উপস্থিত হন। এর পর তিনি ৩টা ৫৫ মিনিটে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। প্রায় ২৬ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও রাজশাহীর বিভিন্ন উন্নয়নকাণ্ড তুলে ধরে ধরেন। এছাড়াও বক্তব্য দেয়ার আগে তিনি প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে হেলিকপ্টারে করে নগরীর জেলখানা প্রশিক্ষণ মাঠে নেমে গাড়িতে করে সভামঞ্চে আসেন। তখন ময়দানভর্তি জনতা হাততালি ও স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে জনতার প্রতি শুভেচ্ছা জানান।

মাদ্রাসা মাঠে (বর্তমান হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) রোববার দুপুর ১১. ৫০ মিনিটে জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। এরপর দলের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন।