ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অমর একুশে বইমেলার পর্দা উঠছে বুধবার

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে বুধবার। বর্তমানে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। আর এক দিন পরই সশরীরে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সরেজমিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, স্টলের অবকাঠামো নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অনেক স্টলে চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা আর রংতুলির আঁচড়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এগিয়ে প্যাভিলিয়ন নির্মাণকাজ। এখন শুধু বই তোলা বাকি। তবে কিছু প্রকাশনীর স্টল নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি।

এবারের বইমেলা চারটি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি চত্বরে চিত্তরঞ্জন সাহা চত্বর। এ অংশে স্টল নির্মাণকাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রয়েছে—শেখ রাসেল শিশু চত্বর, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা চত্বর ও বঙ্গবন্ধু চত্বর। এবার মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে একুশে বইমেলা।

বাংলা একাডেমির পরিচালক ও অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘এবার নতুন ১৮টি প্রকাশনা সংস্থাসহ ৫৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০১ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, আর প্যাভিলিয়ন পেয়েছে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান।’

তিনি বলেন, ‘এবার অবকাঠামো নির্মাণে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকা থেকে স্টল ও প্যাভিলিয়ন সরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনা হয়েছে। এত দিন ওখানে যাঁরা স্টল পেতেন, তাঁরা ক্রেতা কম পাওয়ার অভিযোগ করতেন। এবার সবাই একসঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবেন।’

প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় তথ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের খবর। মেলা চলাকালে প্রতিদিন থাকছে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনাসভা। লেখক বলছি মঞ্চে থাকছে বই নিয়ে লেখক-পাঠকের মতবিনিময়।

গতকাল মেলার মাঠে স্টল নির্মাণকাজের শেষ মুহূর্তের তদারকি করছিলেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে কথা হয় শ্রাবণ প্রকাশনীর কর্ণধার রবিন আহসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বইমেলায় এ বছরের স্টল বিন্যাস প্রকাশকবান্ধব হয়েছে। খুব ফাঁকা ফাঁকা না রেখে স্টলগুলো কাছাকাছি রাখা হয়েছে। এতে সহজে বিভিন্ন স্টল ঘুরতে পারবেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।’

তবে কাগজ ও অন্যান্য অনুষঙ্গের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার বই প্রকাশের সংখ্যা কমবে, আর বইয়ের দামও কিছুটা বাড়বে। ছাত্র-শিক্ষক, মধ্যবিত্ত শ্রেণির পাঠকরাই বইয়ের ক্রেতা। তাদের হাতে এখন টাকা কম। ফলে বিক্রি কেমন হবে এ নিয়ে দ্বিধায় আছি।’

এর পরই দেখা মেলে বলাকা প্রকাশনের প্রকাশক শরীফা বুলবুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী অনেকটা নিরাপদ সময়ে এবার মেলা শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে এবার ক্রেতা সমাগম বেশি হবে বলেই আশা করছি।’

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় মাসব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নূরুল হুদা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই দেয়া হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলা পরিদর্শন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অমর একুশে বইমেলার পর্দা উঠছে বুধবার

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে বুধবার। বর্তমানে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। আর এক দিন পরই সশরীরে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সরেজমিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, স্টলের অবকাঠামো নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অনেক স্টলে চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা আর রংতুলির আঁচড়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এগিয়ে প্যাভিলিয়ন নির্মাণকাজ। এখন শুধু বই তোলা বাকি। তবে কিছু প্রকাশনীর স্টল নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি।

এবারের বইমেলা চারটি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি চত্বরে চিত্তরঞ্জন সাহা চত্বর। এ অংশে স্টল নির্মাণকাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রয়েছে—শেখ রাসেল শিশু চত্বর, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা চত্বর ও বঙ্গবন্ধু চত্বর। এবার মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে একুশে বইমেলা।

বাংলা একাডেমির পরিচালক ও অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘এবার নতুন ১৮টি প্রকাশনা সংস্থাসহ ৫৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০১ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, আর প্যাভিলিয়ন পেয়েছে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান।’

তিনি বলেন, ‘এবার অবকাঠামো নির্মাণে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকা থেকে স্টল ও প্যাভিলিয়ন সরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনা হয়েছে। এত দিন ওখানে যাঁরা স্টল পেতেন, তাঁরা ক্রেতা কম পাওয়ার অভিযোগ করতেন। এবার সবাই একসঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবেন।’

প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় তথ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের খবর। মেলা চলাকালে প্রতিদিন থাকছে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনাসভা। লেখক বলছি মঞ্চে থাকছে বই নিয়ে লেখক-পাঠকের মতবিনিময়।

গতকাল মেলার মাঠে স্টল নির্মাণকাজের শেষ মুহূর্তের তদারকি করছিলেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে কথা হয় শ্রাবণ প্রকাশনীর কর্ণধার রবিন আহসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বইমেলায় এ বছরের স্টল বিন্যাস প্রকাশকবান্ধব হয়েছে। খুব ফাঁকা ফাঁকা না রেখে স্টলগুলো কাছাকাছি রাখা হয়েছে। এতে সহজে বিভিন্ন স্টল ঘুরতে পারবেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।’

তবে কাগজ ও অন্যান্য অনুষঙ্গের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার বই প্রকাশের সংখ্যা কমবে, আর বইয়ের দামও কিছুটা বাড়বে। ছাত্র-শিক্ষক, মধ্যবিত্ত শ্রেণির পাঠকরাই বইয়ের ক্রেতা। তাদের হাতে এখন টাকা কম। ফলে বিক্রি কেমন হবে এ নিয়ে দ্বিধায় আছি।’

এর পরই দেখা মেলে বলাকা প্রকাশনের প্রকাশক শরীফা বুলবুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী অনেকটা নিরাপদ সময়ে এবার মেলা শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে এবার ক্রেতা সমাগম বেশি হবে বলেই আশা করছি।’

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় মাসব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নূরুল হুদা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই দেয়া হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলা পরিদর্শন করবেন।