• শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

যে যা-ই বলুক, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে : প্রধান উপদেষ্টা

দেশের আওয়াজ ডেস্ক : / ১০১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের ভোট ও গণভোট অবশ্যই সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। যে যা-ই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কোনো গোজামিল বা অনিয়ম হবে না। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব—সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ সকলের।’

প্রধান উপদেষ্টা সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, ‘সব পক্ষকে নিয়ে আমরা নিশ্চিত করব যে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ। এটা শুধু একটি ভোট নয়, দেশের গণতান্ত্রিক চেতনার বিজয়।’

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে যমুনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে জামায়াতের নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণ শক্তিতে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন। ইতোমধ্যেই জামায়াতে ইসলামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে, এবং ২২ জানুয়ারি থেকে পাশাপাশি দুই ক্যাম্পেইন চলবে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যেভাবেই হোক, আমাদের ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনের সময় যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব। সরকারের যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি জানান, নির্বাচনের কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং যেসব কেন্দ্রে ঝুঁকির আশঙ্কা আছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সব ভিডিও ফুটেজ মনিটর করা হবে এবং রেকর্ড করা থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

গণভোটে সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন যে সরকারি প্রচারণা আইনসম্মত কি না, তবে আমরা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে এতে কোনো আইনি বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচনের জন্য একটি হটলাইন নম্বরও চালু থাকবে, যেখানে জনগণ যেকোনো অভিযোগ জানাতে পারবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।’

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তারা এই নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না তা এখনো বিবেচনা করছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমরা বিশ্বাস রাখতে পারছি না।’

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণ খেলাপি বা ঋণ খেলাপির গ্যারান্টারদের অনেককে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছি। এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না।’

তিনি ছাত্রদলের নির্বাচনি ভবন ঘেরাও কর্মসূচিকেও ‘নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আজ পুরো বিষয়টি এক ধরনের নাটকের মতো মঞ্চায়িত হয়েছে। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাইরের চাপ এক্সটারনাল প্রেশারের মতো কাজ করেছে।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘রায়ের পূর্ব মুহূর্তে অপরাধী বা তাদের পক্ষের সঙ্গে বসে বিচারক কোনো রায় দিলে তা কখনোই নিরপেক্ষ হয় না। আমরা দেখেছি কমিশনাররা মাত্র ১৫ মিনিট কথা বলার পর দেড় ঘণ্টা বিএনপির একদল নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘দ্বৈত নাগরিক ও ঋণ খেলাপিদের ছাড় দেওয়ার ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও আমরা দেখেছি একজন দ্বৈত নাগরিকের পক্ষে কথা বলছেন। যদি এভাবে কমিশন কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তাহলে তারা কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেইনি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিষয়ে আমাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেব।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ