• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

জেলখানা থেকেও ভোট দিতে পারবে, ইসির নির্দেশিকা জারি 

দেশের আওয়াজ ডেস্ক : / ১২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জেলখানা কিংবা আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতিতে এসব ভোটার ভোট দিতে পারবেন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকাটি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী জেলখানা বা আইনি হেফাজতে আটক ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারবেন।

নির্দেশিকায় জানানো হয়, জেলখানা বা আইনি হেফাজতে আটক ভোটারদের তালিকাভুক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে। নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষ দুজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবেন।

আগ্রহী ভোটারদের নিবন্ধন শেষে সিল ও স্বাক্ষরসহ মুদ্রিত তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি মনোনীত প্রতিনিধিরা নির্ধারিত পোর্টালে ভোটারদের প্রয়োজনীয় তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আপলোড করবেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের খাম গ্রহণ করবেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো খামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দুটি পৃথক ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশনা, একটি ঘোষণাপত্র এবং রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানাসংবলিত ফেরত খাম থাকবে। জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষ ভোটদানের জন্য গোপন কক্ষ প্রস্তুত করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থীর নাম থাকবে না, কেবল বরাদ্দকৃত প্রতীক ও তার পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোটারদের নিজ নিজ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক সরবরাহ করবে। ভোটাররা প্রতীকের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। গণভোটের ক্ষেত্রেও হ্যাঁ বা না-এর পাশে একইভাবে ভোট প্রদান করতে হবে।

ভোট দেওয়ার আগে ঘোষণাপত্রে ভোটারকে নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। স্বাক্ষরে অক্ষম হলে অন্য একজন ভোটার তা সত্যায়ন করবেন। ভোটদান শেষে দুটি ব্যালট পেপার ছোট খামে ভরে সিল করা হবে। এরপর ব্যালটসংবলিত খাম ও ঘোষণাপত্র রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানাযুক্ত হলুদ খামে রেখে তা নির্ধারিত স্থানে জমা দিতে হবে।

ভোটগ্রহণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পোস্টাল ব্যালটের সব খাম সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করবে এবং দ্রুত নিকটস্থ ডাক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে। ডাক বিভাগ এসব খাম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে দেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ডাক মাশুল দিতে হবে না; ব্যয় বহন করবে সরকার।

এই নির্দেশনার মাধ্যমে কারাবন্দী ও আইনি হেফাজতে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল নির্বাচন কমিশন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ