ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ব্যতিক্রম আয়োজনের মধ্য পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব সারদীয় দুর্গা পুজোর আয়োজন। ভাসমান মণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে সারদীয় দুর্গা পূজা।
এছাড়াও ভাসমান পুজা মণ্ডপের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ভগবান বিষ্ণুর দেবী লক্ষ্মী শেষ নাগ ও ব্রহ্ম দেবের প্রতিমা। এছাড়াও জমকালো লাইটিং সারাদিয় দুর্গা পুজোর আয়োজন কে রঙিন করে তুলেছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার চন্ডিদাসদী প্রায়ত সাংবাদিক গৌতম দাসের বাড়িতে গৌতম দাস স্মৃতি সংঘের আয়োজনে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা।
এছাড়াও মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক ও কাঁসর বাজছে। ধর্মীয় সংগীতও চলছে। ফুল, ধূপ ও আগর সৌরভ ছড়াচ্ছে। একপাশে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বলছে। বাহারি আলোকসজ্জায় দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা উজ্জ্বল। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী পুণ্যার্থী প্রতিমার সামনে আসছেন। খালি পায়ে করজোড় করে দেব-দেবীদের প্রণাম করছেন। প্রণামের সময় অনেকে দেব-দেবীর কাছে মনের বাঞ্ছা প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ আবার দেবী মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতেও ভুলছেন না।
হিন্দুশাস্ত্রমতে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে এসেছেন। অসুরশক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজোরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। আবির্ভূত হওয়ার পর দেবী দুর্গা আসুরিক শক্তিকে বিনাশ করে ত্রিভুবন রক্ষা করেন।
এই বিষয়ে গৌতম দাস স্মৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাস জানান, সবাই এক ভাবে সারদীয় দুর্গা পুজোর আয়োজন করে আমরা নিত্য নতুন ভাবে পুজোর আয়োজন করার জন্য ভাসমান পূজা মণ্ডপ করা। প্রতি বছর আমরা ভাসমান পূজা মণ্ডপে সারদীয় দুর্গা পুজোর আয়োজন করে থাকি। হিন্দু মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রতি ও সৌজন্যবোধ রয়েছে। এলাকার সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের পূজা সুন্দর হয়।
এই বিষয়ে গৌতম দাস স্মৃতি সংঘের সভাপতি জয়দেব দাস জানান, প্রতি বছরের ন্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সাম্প্রতি ও সমৃদ্ধি বিশ্ব শান্তির লক্ষে পালিত হচ্ছে সার্বজনিন সারদীয় দুর্গা পূজা। এই বছরও সরকার থেকে ৫’শ কেজি চাল অনুদান দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আনসার মোতায়েন রয়েছে।