• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

আউশ মৌসুমে মণ প্রতি ৪’শ টাকা লোকসান, হতাশ কৃষক

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ১৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বরগুনায় কয়েক বছর ধরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে। একই সঙ্গে অনাবৃষ্টি ও ভারি বৃষ্টির কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আউশের আবাদ। অন্যদিকে উৎপাদিত ধানের সঠিক দাম না পেয়ে হতাশ কৃষকরা। মণ প্রতি চারশো টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে কৃষকদের।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আমনের আবাদের ৪৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৭ হাজার হেক্টর। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ কম আবাদ করা হয়েছে। চাষের শুরুতে অনাবৃষ্টি এবং ধান বের হওয়ার সময় ভারি বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। গত বছর হেক্টর প্রতি চার টন আউশ ধান উৎপাদন হয়েছে। সেখানে এ বছর তিন টন ধান উৎপাদন হয়েছে।

বরগুনা সদর, বেতাগী, আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ধান কাটা উৎসব চলছে। কেউ আবার কাটা ধান মাড়াই করতে ব্যস্ত। মাড়াই স্থান থেকে ধান সরাসরি বাজারে নিচ্ছেন কৃষকরা।

বরগুনা সদর উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, এ বছর ২৮ শতাংশ জমিতে আউশ আবাদ করেছি। বীজতলা থেকে শুরু করে আবাদ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ছয় হাজার ৩৫০ টাকা। নানা কারণে এবছর আউশ ধানের ফলন খারাপ হয়েছে। যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও আসেনি। এছাড়া বাজারে ধানের দাম গত বছরের চেয়ে কম। মণ প্রতি লোকসান চারশো টাকা। এ টাকা দিয়ে এক হালি জাটকাও মিলছে না।
আরো পড়ুনঃ জয়পুরহাটে ইউএনওর স্ত্রীর মর্যাদা পেতে সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় শিক্ষিকা
নিজাম হাওলাদার নামের আরেক কৃষক বলেন, ১০০ শতাংশ জমিতে আউশ আবাদ করেছিলাম। ২০ হাজার টাকা খরচ করে ২১ মণ ধান পেয়েছি, বাজারে ৮২০ টাকা ধরে ১৭ হাজার ২২০ টাকায় বিক্রি করেছি। আউশ আবাদে আমার তিন হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

আমতলীর চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জিয়া উদ্দিন জুয়েল বলেন, তিন বছর ধরে জমি আবাদ করিনি। এবছর ভালো লাভের আশায় আউশ ধান আবাদ করেছিলাম। কিন্তু তেমন ধান হয়নি। ১২০ শতাংশ জমিতে মাত্র ৩০ মণ ধান পেয়েছি। তাতে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

আমতলীর ধান ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ফলন কম হওয়ায় এ বছর বাজারে কম ধান আসছে। বাজারে ধানের দামও কম। প্রতিমণ ধান ৮৪০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মো: জোবায়দুল আলম বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার হেক্টর কম জমিতে আউশ আবাদ হয়েছে। আউশ উৎপাদন কমে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ