ভারতের দিল্লিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে তিনটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ভারত তিনটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এগুলো হলো- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মধ্যে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা এবং ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির সম্প্রসারণ।
এছাড়াও তৃতীয় সমঝোতা স্বারকটি দুই দেশের মধ্যে রুপিতে এবং টাকায় লেনদেন সহজতর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশনের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়ে।
নরেন্দ্র মোদির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া ছবি।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানি না।
এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে ওই বৈঠক শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে নিজের ফেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই একই পোস্ট দেওয়া হয়।
পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গত ৯ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক। আমাদের আলোচনায় কানেক্টিভিটি, বাণিজ্যিক সংযুক্তি এবং আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শুক্রবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ১টা ৪০) প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে ভারতের রেল ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা জার্দোশ শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। তারও আগে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
জি-২০’র বর্তমান সভাপতি ভারত যে নয়টি দেশকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। শেখ হাসিনার এই সফর এমন এক সময় হলো যখন বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার এই ভারত সফর বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: ইউএনবি।