• শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:২৪ অপরাহ্ন

মামলা করবেন হিরো আলম, চিঠি দেবেন দূতাবাসে

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন বর্জন ঘোষণার পর তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করবেন মো. আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম। এই হামলাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দূতাবাসে চিঠি দেবেন বলেও জানিয়েছেন হিরো আলম।

সোমবার (১৭ জুলাই) মহানগর হাউজিং সোসাইটিতে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে তিনি একথা বলেন।

হিরো আলম বলেন, আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি। ইসি আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ সব দূতাবাসে চিঠি দিবো।

এসময় হিরো আলম কেন্দ্রের ভেতর ব্যালট মেরে ভোট কারচুপিরও অভিযোগ তোলেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আগামীতে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হিরো আলম বলেন, না না, এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন করবো না আমি। ভোটের এরকম পরিবেশ হলে, প্রার্থীদের ওপর হামলা হলে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো দরকার নেই।

একতারা প্রতীকের এ স্বতন্ত্র প্রার্থী আরও বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে (ঢাকা-১৭ উপ-নির্বাচন) আর কোনো দলই আসেনি। যে নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা চালানো হয় সেখানে এ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

নতুন কোনো দল গঠন করবেন কি না- এ প্রশ্নে হিরো আলম বলেন, এ মুহূর্তে আমার এরকম কোনো চিন্তাভাবনা নেই।
এসময় সম্প্রতি বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেন হিরো আলম।

এর আগে, ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোট চলাকালে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন হিরো আলম। বিভিন্ন কেন্দ্রে নিজের এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হিরো আলম। বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হিরো আলম বলেন, যেহেতু আমার এজেন্টের গায়ে হাত দিয়েছে, তাহলে আমার গায়েও যে হাত দেবে না, তার কি নিশ্চয়তা আছে?

রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে তিনটার একতারা প্রতীকের প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নিরাপত্তায় তাকে কেন্দ্র থেকে বাহির নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, বনানী বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রে বিকেল ৩ টা ১৮ মিনিটে প্রবেশ করেন হিরো আলম। এ সময় সঙ্গে ছিল তার সমর্থকরাও। নৌকা প্রার্থী আরাফাতের সমর্থকরা তখন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। এরপর হিরো আলম কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের ভবনের একটি কক্ষে ঢুকতে যান। তখন নৌকার সমর্থকরা তাকে গালাগালি শুরু করেন। তাদের মধ্য থেকে একজন হিরো আলমে ধাক্কা দেন। এতে হিরো আলম ক্ষেপে যান এবং সেই যুবকের দিকে তেড়ে যান। এই অবস্থা দেখে উপস্থিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এক পুলিশ সদস্য হিরো আলমকে রক্ষা করে গেটের দিকে নিয়ে যায়।
গেট থেকে বের হওয়া মাত্র নৌকার সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দেন এবং মারধর শুরু করেন। তাদের মারধরের মাটিতে পড়ে যান হিরো আলম। এ সময় প্রায় ৫০ জনের বেশি যুবক ৩০ সেকেন্ড ধরে তাকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকেন। হিরো আলমের সমর্থকরা তাকে দ্রুত তুলে নিয়ে দৌড় দিলে নৌকার সমর্থকরা তাদের পেছন পেছন যায় এবং তাদের আবারও আরেক দফা হামলা করে। বারবার হামলার এক পর্যায়ে হিরো আলমের সমর্থকরা দ্রুত বনানীর দিকে চলে যান। বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে একটি স্থানে গিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে তার সেখানে পৌঁছালে গাড়িতে করে চলে যান।

এ বিষয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তবে হামলা শেষে হামলাকারী যুবকরা একে অপরকে বলছিল, ‘আজ বসিয়ে দিলাম’। হামলার ভিডিও দেখেও হাসাহাসি করছিল হামলাকারীরা।

এদিকে, হিরো আলমের ওপর হামলার বিষয়ে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান জানিয়েছেন, একতারা প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ভিডিও দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তিনি দাবি করেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।’
উপনির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। তবে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম ছিল।

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। তাদের মধ্যে দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মোহম্মদ আলী আরাফাত, জাতীয় পার্টির (জাপা) সিকদার আনিসুর রহমান, জাকের পার্টির কাজী মো. রাশিদুল হাসান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. রেজাউল ইসলাম স্বপন এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মো. আকবর হোসেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আশরাফুল আলম (হিরো আলম) ও মো. তারিকুল ইসলাম।

রাজধানীর গুলশান, বনানী, ভাসানটেক থানা ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন নানা কারণে দেশবাসীর মনোযোগ কেড়েছে। গত ১৫ মে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) মারা যাওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়। এই আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮০ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ