ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৪০ বছর ধরে মই তৈরি করে সংসার চালায় বাগমারার আব্দুল ওয়াহেদ

নাজিম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩ ২০৪ বার পড়া হয়েছে

চাষবাদে এখন আর লাঙ্গল- মইয়ের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এসেছে কলের লাঙ্গল ট্রাকটর যা দিয়ে লাঙ্গল-মইয়ের কাজ একি সাথে করা যায়। কৃষিতে এসেছে চোখ ধাঁধানো আরো আধুনিকতা। তারপরও মইয়ের কদর কমেনি। একদা চাষাবাদে লাঙ্গলের পরই ব্যবহার হত মই। তখন গ্রামাঞ্চলের অনেক কাঠমিস্ত্রী মই তৈরি করতেন পাশপাশি অন্য জিনিসও। এখন যুগ পাল্টেছে। চাষাবাদে মইয়ের ব্যবহার না থাকলেও অনুসাঙ্গিক কাজে মইয়ের ব্যবহার রয়েছে । এই চাহিদা থেকেই চল্লিশ বছর ধরে মই তৈরি করছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ(৭৫)। ছোট বড় মাঝারী সব সাইজের মই তিনি তৈরি করেন যার দাম ৫শ থেকে দেড় হাজারের মধ্যে। তবে বেশি বড় মই তৈরি করে নিতে চাইলে অর্ডার দিতে হয়। তার দামও বেশি পড়ে। ভুমিহীন আব্দুল ওয়াহেদ চার দশক ধরে মই তৈরি করেন। এলাকায় তিনি মই ওয়াহেদ নামে পরিচিত। এই দীর্ঘ সময় ধরে মই তৈরি করলেও এর সাথে রয়েছে তার বিশেষ স্মৃতি। যৌবনে দিন মজুর ছিলেন আব্দুল ওয়াহেদ। ঘরে টিনের ছাউনি বা খড়ের ছাউনির কাজ করতেন। ওই সমস্ত কাজে মইয়ের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। হটাৎ একদিন মই ভেঙ্গে পড়ে যান তিনি। এতে মাজায় প্রচণ্ড আঘাত পান। পরে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে দিন মজুরী ছেড়ে শুরু করে মই তৈরির কাজ। এভাবেই কেটে যায় চল্লিশ বছর। আব্দুল ওয়াহেদ পাকা বাঁশ দিয়ে মই তৈরি করেন। যা সহসা ঘুণ ধরে না-টেকে বহুদিন। স্থানীয় প্রতি হাটে ৫/৬ টি মই বিক্রি করেন । মই প্রতি ৩ থেকে ৪শ টাকা লাভ টিকে। এতেই ভাল মত দিন চলে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৪০ বছর ধরে মই তৈরি করে সংসার চালায় বাগমারার আব্দুল ওয়াহেদ

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩

চাষবাদে এখন আর লাঙ্গল- মইয়ের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এসেছে কলের লাঙ্গল ট্রাকটর যা দিয়ে লাঙ্গল-মইয়ের কাজ একি সাথে করা যায়। কৃষিতে এসেছে চোখ ধাঁধানো আরো আধুনিকতা। তারপরও মইয়ের কদর কমেনি। একদা চাষাবাদে লাঙ্গলের পরই ব্যবহার হত মই। তখন গ্রামাঞ্চলের অনেক কাঠমিস্ত্রী মই তৈরি করতেন পাশপাশি অন্য জিনিসও। এখন যুগ পাল্টেছে। চাষাবাদে মইয়ের ব্যবহার না থাকলেও অনুসাঙ্গিক কাজে মইয়ের ব্যবহার রয়েছে । এই চাহিদা থেকেই চল্লিশ বছর ধরে মই তৈরি করছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ(৭৫)। ছোট বড় মাঝারী সব সাইজের মই তিনি তৈরি করেন যার দাম ৫শ থেকে দেড় হাজারের মধ্যে। তবে বেশি বড় মই তৈরি করে নিতে চাইলে অর্ডার দিতে হয়। তার দামও বেশি পড়ে। ভুমিহীন আব্দুল ওয়াহেদ চার দশক ধরে মই তৈরি করেন। এলাকায় তিনি মই ওয়াহেদ নামে পরিচিত। এই দীর্ঘ সময় ধরে মই তৈরি করলেও এর সাথে রয়েছে তার বিশেষ স্মৃতি। যৌবনে দিন মজুর ছিলেন আব্দুল ওয়াহেদ। ঘরে টিনের ছাউনি বা খড়ের ছাউনির কাজ করতেন। ওই সমস্ত কাজে মইয়ের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। হটাৎ একদিন মই ভেঙ্গে পড়ে যান তিনি। এতে মাজায় প্রচণ্ড আঘাত পান। পরে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে দিন মজুরী ছেড়ে শুরু করে মই তৈরির কাজ। এভাবেই কেটে যায় চল্লিশ বছর। আব্দুল ওয়াহেদ পাকা বাঁশ দিয়ে মই তৈরি করেন। যা সহসা ঘুণ ধরে না-টেকে বহুদিন। স্থানীয় প্রতি হাটে ৫/৬ টি মই বিক্রি করেন । মই প্রতি ৩ থেকে ৪শ টাকা লাভ টিকে। এতেই ভাল মত দিন চলে যায়।