সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলমান সমাপনী পরীক্ষা থেকে বিরত রয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। ‘প্রাথমিক সাধারণ শিক্ষক ঐক্য জোট, পুঠিয়া শাখা’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আন্দোলনে নেমেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১ ডিসেম্বর (সোমবার) থেকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে তারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষা বর্জন করেছেন।
পুঠিয়া শাখার আহ্বায়ক ও পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হামিদ বিশ্বাস (সবুজ) বলেন, “গত ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, দ্রুতই সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন হবে। এমনকি বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।”
এক শিক্ষক প্রতিনিধি বলেন, “আমাদের ২০০ সহকারী শিক্ষকের রক্ত ঝরেছে, একজন শিক্ষক শহিদ হয়েছেন। এত ত্যাগের পরও সরকার এখনো দাবির ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।”
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি সত্য। তবে আমরা প্রতিটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক, কর্মচারী এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।” তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকিতে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্দোলনকারীরা দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।