ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০২৩ ৬১ বার পড়া হয়েছে

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে নিলো পাকিস্তান ক্রিকেট দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৫২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। তৈয়ব তাহির করেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। এছাড়া আরও দুটি হাফ সেঞ্চুরি ও কয়েকটি মাঝারি মানের ইনিংসের ওপর ভর করে এতবড় স্কোর গড়ে তোলে পাকিস্তানিরা।
জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানি বোলিংয়ের সামনে ৪০ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় ভারতীয়রা। স্কোরবোর্ডে রান তুলতে সক্ষম হয় তারা ২২৪টি। যার ফলে ১২৮ রানের বিশাল পরাজয়। ভারতের হয়ে একমাত্র অভিষেক শর্মাই লড়াই করেন। তিনি সংগ্রহ করেন ৬১ রান।

দুর্ভাগ্য ছিল বাংলাদেশের। সেমিফাইনালে ভারতকে বাগে পেয়েও হারাতে পারেনি। উল্টো ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদর্শনী দেখিয়ে নিজেরা পরাজিত হলো। না হয়, ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলতো বাংলাদেশের ‘এ’ দল।

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনাল ভারতীয়দের মনে করিয়ে দিল ছয় বছর আগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালকে। রোববার ভারতীয় ‘এ’ দল ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং, তিনটি বিভাগেই ব্যর্থ। পর পর দু’বার ইমার্জিং এশিয়া কাপ জিতে নিল পাকিস্তান। এর আগে ২০১৯ সালে জিতেছিল তারা।

২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্বে পকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছিলো ভারত। কিন্তু ফাইনালে হারতে হয়েছিলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে। ঠিক যেন সে ঘটনারই পূনরাবৃত্তি ঘটলো এবার। গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে জিতেছিল যশ ঢুলের ভারত; কিন্তু ফাইনালে হারতে হল ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে।

বোলিং বা ব্যাটিংয়ের থেকেও এই হারের জন্য দায়ী ভারতের ফিল্ডিং। একাধিক ক্যাচ ছেড়েছে তারা। তরুণ অধিনায়ক যশ ঢুল যেভাবে ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন, সেটাও হারের কারণ হয়ে রইল। ফাঁকা জায়গা পেয়ে পাকিস্তানের ব্যাটারেরা মনের সুখে রান করে গেলেন।

রোববার ফাইনালে টস হেরে শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটারেরা মারমুখী মেজাজে ছিলেন। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যে পাকিস্তানকে ২০৫ রানের মধ্যে অলআউট করে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা, সেই ব্যাটাররাই এই ম্যাচে প্রতিশোধ নেয়ার মেজাজে ছিলেন। দুই ওপেনার সায়েম আইয়ুব এবং সাহিবজাদা ফারহান মিলে মাত্র ১৭ ওভারেই ১২১ রান তোলেন।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মানব সুতার। ভারতের বাঁ-হাতি এই অলরাউন্ডারের বল নিচু হয়ে আসে। সেই বলটি কাট মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন সায়েম (৫৯)। সাহিবজাদাও এরপর বেশিক্ষণ সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি। ৬২ বলে ৬৫ রান করে রান আউট হয়ে যান তিনি।

ভারতকে এরপর ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন রায়ান পরাগ। পরপর দু’বলে তিনি তুলে নেন ওমায়ের ইউসুফ এবং কাশিম আকরামকে। ৩৫ রান করা ইউসুফের ক্যাচ নিজেই নেন রায়ান। সেই ক্যাচটি ঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে কি না সেই বিষয়ে নিজেই নিশ্চিত ছিলেন তিনি। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে পাকিস্তানের ব্যাটারের মতো অবাক হয়ে যায় ভারতও। পরের বলেই মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন আকরাম। অধিনায়ক মোহাম্মদ হ্যারিসও বেশি ক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। তিনি মাত্র দু’রান করেন। ১৮৭ রানে পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল ভারত।

পাকিস্তান যখন কিছুটা বিপদে পড়ে গিয়েছে, সেই সময় দলের হাল ধরেন তৈয়ব এবং মুবাসির খান। তারা ১৮৬ রানের জুটি গড়েন। ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দেন তারা। তৈয়ব ৭১ বলে ১০৮ রান করেন। মুবাসসির করেন ৩৫ রান। তাদের দু’জনকেই আউট করেন রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকর। ৬ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ভারতীয় পেসার। একটি করে উইকেট নেন হারশিত রানা, সুতার এবং নিশান্ত সিন্ধু। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ৩৫২ রানে।

এই বিশাল রান তুলতে হলে শুরু থেকেই দ্রুত রান করতে হতো সাই সুদর্শনদের। সেটাই করছিলেন তিনি এবং অভিষেক শর্মা; কিন্তু খুব বেশিক্ষণ সেটা পারেননি। ৬৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারতীয় ‘এ’ দল। ২৯ রানে আউট হন সুদর্শন। তিন নম্বরে নেমে নিকিন জোস করেন ১১ রান।

ওপেনার অভিষেক শর্মা কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু ৬১ রানের মাথায় তার উইকেট তুলে নেন সুফিয়ান মুকিম। অধিনায়ক যশ ঢুলও ৩৯ রানের বেশি করতে পারেননি। বাকি ব্যাটাররা এসেছেন এবং আউট হয়েছেন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় ভারত ‘এ’। পাকিস্তান এ জিতে নেয় ৬০ বল বাকি থাকতেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

আপডেট সময় : ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০২৩

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে নিলো পাকিস্তান ক্রিকেট দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৫২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। তৈয়ব তাহির করেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। এছাড়া আরও দুটি হাফ সেঞ্চুরি ও কয়েকটি মাঝারি মানের ইনিংসের ওপর ভর করে এতবড় স্কোর গড়ে তোলে পাকিস্তানিরা।
জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানি বোলিংয়ের সামনে ৪০ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় ভারতীয়রা। স্কোরবোর্ডে রান তুলতে সক্ষম হয় তারা ২২৪টি। যার ফলে ১২৮ রানের বিশাল পরাজয়। ভারতের হয়ে একমাত্র অভিষেক শর্মাই লড়াই করেন। তিনি সংগ্রহ করেন ৬১ রান।

দুর্ভাগ্য ছিল বাংলাদেশের। সেমিফাইনালে ভারতকে বাগে পেয়েও হারাতে পারেনি। উল্টো ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদর্শনী দেখিয়ে নিজেরা পরাজিত হলো। না হয়, ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলতো বাংলাদেশের ‘এ’ দল।

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনাল ভারতীয়দের মনে করিয়ে দিল ছয় বছর আগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালকে। রোববার ভারতীয় ‘এ’ দল ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং, তিনটি বিভাগেই ব্যর্থ। পর পর দু’বার ইমার্জিং এশিয়া কাপ জিতে নিল পাকিস্তান। এর আগে ২০১৯ সালে জিতেছিল তারা।

২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্বে পকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছিলো ভারত। কিন্তু ফাইনালে হারতে হয়েছিলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে। ঠিক যেন সে ঘটনারই পূনরাবৃত্তি ঘটলো এবার। গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে জিতেছিল যশ ঢুলের ভারত; কিন্তু ফাইনালে হারতে হল ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে।

বোলিং বা ব্যাটিংয়ের থেকেও এই হারের জন্য দায়ী ভারতের ফিল্ডিং। একাধিক ক্যাচ ছেড়েছে তারা। তরুণ অধিনায়ক যশ ঢুল যেভাবে ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন, সেটাও হারের কারণ হয়ে রইল। ফাঁকা জায়গা পেয়ে পাকিস্তানের ব্যাটারেরা মনের সুখে রান করে গেলেন।

রোববার ফাইনালে টস হেরে শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটারেরা মারমুখী মেজাজে ছিলেন। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যে পাকিস্তানকে ২০৫ রানের মধ্যে অলআউট করে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা, সেই ব্যাটাররাই এই ম্যাচে প্রতিশোধ নেয়ার মেজাজে ছিলেন। দুই ওপেনার সায়েম আইয়ুব এবং সাহিবজাদা ফারহান মিলে মাত্র ১৭ ওভারেই ১২১ রান তোলেন।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মানব সুতার। ভারতের বাঁ-হাতি এই অলরাউন্ডারের বল নিচু হয়ে আসে। সেই বলটি কাট মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন সায়েম (৫৯)। সাহিবজাদাও এরপর বেশিক্ষণ সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি। ৬২ বলে ৬৫ রান করে রান আউট হয়ে যান তিনি।

ভারতকে এরপর ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন রায়ান পরাগ। পরপর দু’বলে তিনি তুলে নেন ওমায়ের ইউসুফ এবং কাশিম আকরামকে। ৩৫ রান করা ইউসুফের ক্যাচ নিজেই নেন রায়ান। সেই ক্যাচটি ঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে কি না সেই বিষয়ে নিজেই নিশ্চিত ছিলেন তিনি। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে পাকিস্তানের ব্যাটারের মতো অবাক হয়ে যায় ভারতও। পরের বলেই মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন আকরাম। অধিনায়ক মোহাম্মদ হ্যারিসও বেশি ক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। তিনি মাত্র দু’রান করেন। ১৮৭ রানে পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল ভারত।

পাকিস্তান যখন কিছুটা বিপদে পড়ে গিয়েছে, সেই সময় দলের হাল ধরেন তৈয়ব এবং মুবাসির খান। তারা ১৮৬ রানের জুটি গড়েন। ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দেন তারা। তৈয়ব ৭১ বলে ১০৮ রান করেন। মুবাসসির করেন ৩৫ রান। তাদের দু’জনকেই আউট করেন রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকর। ৬ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ভারতীয় পেসার। একটি করে উইকেট নেন হারশিত রানা, সুতার এবং নিশান্ত সিন্ধু। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ৩৫২ রানে।

এই বিশাল রান তুলতে হলে শুরু থেকেই দ্রুত রান করতে হতো সাই সুদর্শনদের। সেটাই করছিলেন তিনি এবং অভিষেক শর্মা; কিন্তু খুব বেশিক্ষণ সেটা পারেননি। ৬৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারতীয় ‘এ’ দল। ২৯ রানে আউট হন সুদর্শন। তিন নম্বরে নেমে নিকিন জোস করেন ১১ রান।

ওপেনার অভিষেক শর্মা কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু ৬১ রানের মাথায় তার উইকেট তুলে নেন সুফিয়ান মুকিম। অধিনায়ক যশ ঢুলও ৩৯ রানের বেশি করতে পারেননি। বাকি ব্যাটাররা এসেছেন এবং আউট হয়েছেন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় ভারত ‘এ’। পাকিস্তান এ জিতে নেয় ৬০ বল বাকি থাকতেই।