রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সরকারি নিযমনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে কিন্ডার গার্ডেন এন্ড ক্যাডেট কেজি স্কুলসহ অসংশ প্রাইভেট কোচিং সেন্টার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত কচিকাঁচা শিক্ষার্থী পড়াশুনা করলেও এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এবং শিক্ষার মানন্নোয়ন নয় ব্যবসাই মূল লক্ষ্য এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মালিকদের। অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই শিক্ষার পরিবেশ। ছোট পরিসরে গাদাগাদি করে পাঠদান, অদক্ষ ও তুলনামূলক স্বল্প শিক্ষিত শিক্ষক দ্বারা পাঠদান দেন। তারা সরকারের পাঠ্য বইয়ের তুলনায় নিজেদের বইকে প্রাধান্য দেন এবং অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় কচিকাচা শিক্ষার্থীদের ওপর। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা, মোহনগঞ্জ হাট, শিকদারী, হামিরকুৎসা, মসমইল,বাইগাছা, হাটগাঙ্গোপাড়াসহ উপজেলার আনাছে-কানাচে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে কিন্ডার গার্টেন এন্ড ক্যাডেট স্কুল ও কোচিং সেন্টার। এসব বাণিজ্িিয ভিত্তিক প্রতিষ্টানে বোর্ডের বাংলা, ইংরেজি, গণিতে তিনটি বিষয়ের সঙ্গে সহায়ক হিসাবে ধর্ম, পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান, ওয়ার্ড বুক, চিত্রাঙ্কন, বাংলা ও ইংরেজি হাতের লেখা শেখার, সাধারণ জ্ঞান, নামতা-গুণ-ভাগ জ্যামিতি আছে এবং একটি গণিত বই, ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গল্প ও কবিতার এবং কম্পিউটার শিক্ষা সংক্রান্ত বই দেয়া হয়ে থাকে। স্কুল ভেদে এসব বইয়ের সংখ্যা ও বিষয় কম বেশি হয়ে থাকে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, বিজ্ঞান ও ধর্ম ৬টি সরকারি বইয়ের সঙ্গে সহায়ক হিসাবে দেয়া হয় ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার ,কম্পিউটার, চিত্রাঙ্কন, দ্রুত পঠন ধরনের দুই থেকে ছয়টি বই। এছাড়া স্কুল থেকে ওই শিক্ষকদের কোচিং প্রইভেটে যাওয়ার জন্য অনেক শিশুকে ব্যাগে তুলে নিতে হয় সেইসব বই। আর এসব শিক্ষা বাণিজ্য করে লাভবান হচ্ছে প্রি-ক্যাডেট কিন্ডার গার্ডেন পরিচালক বা মালিকগণ। এগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় চলছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে টানাটানি। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এমনকি ক্লাস শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা বিষয় ভিত্তিক প্রতি মাসে শত শত টাকা দিয়ে কোচিংয়ে পড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারি স্কুলব্যাগ নিষেধ। কিন্তু কোনো স্কুলে মানা হচ্ছে না এ আইন। অভিভাবকেরা জানান, কেজি স্কুলের শিক্ষকের ভয়ে শিক্ষার্থীরা অনুমোদিত বইয়ের বাইরে বাড়তি বই নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পরিপত্রে বলা হয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য যেসব বই অনুমোদিত করেছে তা বহনে সমস্যা হবার কথা না।পরিপত্রে ও আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত বই বহন করলে শিশুদের ঘাড়ে ব্যথা বা অন্য সমস্যা হবে না।কিন্তু শিক্ষার্থীদের ব্যাগে গাইড বই থেকে শুরু যাবতীয় জিনিসপত্র থাকার কারণে ১০ শতাংশের চেয়ে কয়েক গুন বেশি ওজনসহ ব্যাগ বহন করতে হচ্ছে।