ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তারাকান্দায় প্রতিবন্ধী আকবর ছিদ্দিকির পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

আরিফ রববানী , ময়মনসিংহ ||
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তারাকান্দা ইউনিয়নের তারাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আকবর ছিদ্দিকি । তিনি জম্মগতভাবে প্রতিবন্ধী নন, ভাগ্যের পরিহাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কয়েক বছর আগে তার পা কেটে ফেলতে হয়। তার সংসারে স্ত্রী-সন্তান আছে। তাদের নিয়ে অসহায়ের মতো আকবর ছিদ্দিকির।

তিনি মুখ খুলে কারো কাছ থেকে কখনো ভিক্ষাবৃত্তি চান না। কেউ নিজ ইচ্ছায় টাকা পয়সা দিলে বা সহযোগিতা করলে সেটা নেন এবং সেই টাকা দিয়েই চলে সংসার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এক শতক জমির ওপর নির্মিত একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন।

বিষয়টি তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত এর কানে আসে। তিনি খোজ নিতে ছুটে যান আকবর ছিদ্দিকির কাছে। তার অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত। এসময় তিনি হুইলচেয়ার প্রদান করেন আকবর ছিদ্দিকিকে। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী রনু ঠাকুরসহ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবন্ধী আকবর ছিদ্দিকি জানান, আমি অনেক কষ্ট করে সংসারের ব্যয়বহন করে আসছি। হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য আমার নেই। অনেকে হুইলচেয়ার দেওয়ার কথা বলেও দেয়নি। আজ আমি ইউএনও স্যারের মানবিকতার জন্য হুইলচেয়ার পেলাম। আকবর ছিদ্দিকি এখন হুইলচেয়ারে করে চলাফেরা করতে পারবে। এতে তিনি খুব খুশি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তপ্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং ইউএনও মিজাবে রহমত এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় ইউএনও বলেন, সকলে মিলে সহযোগিতা করলে প্রতিবন্ধী আকবর ছিদ্দিকিকে ভিক্ষা বৃত্তি না করে কর্মীর হাতে রুপান্তরিত হতে পারে। তাকে সহযোগিতা করার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান ইউএনও মিজাবে রহমত। তিনি জানান-তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সহায়তা করে আসছে। এ কার্যক্রম আগেও চলমান ছিল, এখনও আছে।আগামীতেও থাকবে।

একই দিনে তিনি দেশের সোনালী আশ নামে পরিচিত পাট শিল্পকে বাঁচাতে গ্রামে-গ্রামে বিভিন্ন পাটচাষিদের খোঝ খবর নেন এবং পাট ক্ষেতে নেমে পাট গাছ কর্তন উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কাওছার আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তারাকান্দায় প্রতিবন্ধী আকবর ছিদ্দিকির পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

আপডেট সময় : ১০:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তারাকান্দা ইউনিয়নের তারাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আকবর ছিদ্দিকি । তিনি জম্মগতভাবে প্রতিবন্ধী নন, ভাগ্যের পরিহাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কয়েক বছর আগে তার পা কেটে ফেলতে হয়। তার সংসারে স্ত্রী-সন্তান আছে। তাদের নিয়ে অসহায়ের মতো আকবর ছিদ্দিকির।

তিনি মুখ খুলে কারো কাছ থেকে কখনো ভিক্ষাবৃত্তি চান না। কেউ নিজ ইচ্ছায় টাকা পয়সা দিলে বা সহযোগিতা করলে সেটা নেন এবং সেই টাকা দিয়েই চলে সংসার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এক শতক জমির ওপর নির্মিত একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন।

বিষয়টি তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত এর কানে আসে। তিনি খোজ নিতে ছুটে যান আকবর ছিদ্দিকির কাছে। তার অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত। এসময় তিনি হুইলচেয়ার প্রদান করেন আকবর ছিদ্দিকিকে। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী রনু ঠাকুরসহ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবন্ধী আকবর ছিদ্দিকি জানান, আমি অনেক কষ্ট করে সংসারের ব্যয়বহন করে আসছি। হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য আমার নেই। অনেকে হুইলচেয়ার দেওয়ার কথা বলেও দেয়নি। আজ আমি ইউএনও স্যারের মানবিকতার জন্য হুইলচেয়ার পেলাম। আকবর ছিদ্দিকি এখন হুইলচেয়ারে করে চলাফেরা করতে পারবে। এতে তিনি খুব খুশি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তপ্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং ইউএনও মিজাবে রহমত এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় ইউএনও বলেন, সকলে মিলে সহযোগিতা করলে প্রতিবন্ধী আকবর ছিদ্দিকিকে ভিক্ষা বৃত্তি না করে কর্মীর হাতে রুপান্তরিত হতে পারে। তাকে সহযোগিতা করার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান ইউএনও মিজাবে রহমত। তিনি জানান-তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সহায়তা করে আসছে। এ কার্যক্রম আগেও চলমান ছিল, এখনও আছে।আগামীতেও থাকবে।

একই দিনে তিনি দেশের সোনালী আশ নামে পরিচিত পাট শিল্পকে বাঁচাতে গ্রামে-গ্রামে বিভিন্ন পাটচাষিদের খোঝ খবর নেন এবং পাট ক্ষেতে নেমে পাট গাছ কর্তন উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কাওছার আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।