জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পাশ্চাত্যকে ‘মিথ্যার সাম্রাজ্য’ বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ পশ্চিমাদের প্রতারণার শিকার, তারা যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আদায় করার জন্য গ্লোবাল সাউথের ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য নব্য-উপনিবেশিক মানসিকতা গ্রহণ করেছে।‘
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আল জাজিরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার অধীনস্থ মিত্ররা দ্বন্দ্ব প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির ১০ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি একইসাথে কৃষ্ণ সাগরীয় শস্য উদ্যোগ আবার চালু করার জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবও খারিজ করে দেন।
তিনি বলেন, ‘এমনটা সম্ভব নয়। এমন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এটা বাস্তবসম্মতও নয়। সবাই তা বোঝে। কিন্তু একইসাথে তারা বলছে যে এটাই হবে আলোচনার একমাত্র ভিত্তি।’
গত বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে ভার্চুয়াল বক্তব্যে ১০ দফা প্রস্তাবটি রেখেছিলেন জেলেনস্কি। তার এ প্রস্তাবে রয়েছে পরমাণু নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বন্দি বিনিময় ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন, রুশ সেনা প্রত্যাহার, পরিবেশ রক্ষা, সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা।
এ ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করে সারাবিশ্বে খাদ্য ও জ্বালানির সংকটের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেন ল্যাভরভ।