• বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

চারঘাটে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আতিকুর রহমান আশা, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি : / ৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় এবার আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের সোনালী আমন ধান দোল খাচ্ছে মাঠ জুড়ে। আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। ধান পাকতে শুরু করেছে।
এবছর বন্যা-খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিকূলতা কাটিয়ে সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকসহ শ্রমিকরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কৃষি মাঠে সোনালীর সমারোহ। দু’ চোখ যতটুকু যাচ্ছে ধানের ক্ষেতই চোখে পড়ছে। অনেক কৃষক মাঠে ধান গাছের পরিচর্যা করছে। কেউ কেউ সার, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার এবং পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষতি পোষাতে সচেষ্ট রয়েছেন। আবার অনেক কৃষক ক্ষেতের পাশে বসে বসে ধানের পাহারা দিচ্ছেন।

উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, এবার জমিতে আমন ধানের ফসল অনেক ভাল হয়েছে। তবে জমি তৈরিতে অনেক পরিশ্রম করেছি, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির সংকট ছিল। সারের দামও এবার একটু বেশী ছিল। তারপরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ফলন ভালো হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। ধানের দামটা ভাল পেলে আরও খুশি হবো।

উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের পাটিয়াকান্দি গ্রামের সম্রাট আলী বলেন, ‘এবার আমি প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। এখনো কাটার উপযোগী হয়নি। তার মধ্যে এক বিঘা জমির ধান পেকে আসছে। ধানের যে পরিস্থিতি দেখছি যদি কোনো ধরনের দুর্যোগ না আসে তা হলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।

উপজেলার সলুয়া ইউনিয়নের হুমায়ুন কবীর এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি এবার প্রায় ১২০ শতক জমিতে আমনের চাষ করেছি। বৃষ্টির কারণে রোপা আমন লাগাতে দেরি হওয়ায় চিন্তায় ছিলাম। জমিতে ধানের অবস্থা ভালো। আশা করছি এবারো ভালো ফলন হবে ইনশা আল্লাহ।’

চারঘাট ইউনিয়নের এলাকার কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ধানচাষে আগের মতো লাভ হয় না। সার ও টিকনাশকসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। এ ছাড়া শ্রমিকের মজুরিও আগের চেয়ে বেশি। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে পোষাবে, না হয় লাভ হবে না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার বলেন, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ার পরও আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। যদি ঠিক সময়ে পানি পাওয়া যেত তাহলে আরো বেশি জমিতে চাষ করা সম্ভব ছিল। উপজেলাজুড়ে ৫হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের, ৫৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। জমিতে ধানের অবস্থা এখন খুব ভালো রয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তা হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছারিয়ে যাবে বলে আশাবাদী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ