• শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

গোদাগাড়ীতে ঝড়ে ১শ’ বাড়িঘর ও গাছপালা লন্ডভন্ড, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ঝড়ে বাড়িঘর গাছপালা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে এবং অবিরাম বৃষ্টি পানিতে তলিয়ে গেছে ধান ক্ষেত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮ টা থেকে অবিরাম বৃষ্টি শুরু হয় রাত সাড়ে ১১টার সময় হঠাৎ কয়েক মিনিটের ঝড়ে উপজেলার পিরিজপুর গ্রামে ১শ’ ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ উড়িয়ে নিয়েছে এবং গাছপালা ভেঙ্গে নিমিশেয় লন্ডভন্ড করে দেয়।তার মধ্যে প্রায় ১০/১২টি পরিবার একেবারে নিঃষশো হয়ে গেছে। মাঠে বোরো ধান, ভুট্টা ও টমেটোর ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে পিরিজিপুর গ্রামের ঝড়ে বাড়িঘর গাছপালা লন্ডভন্ড হলেও অবিরাম বৃষ্টিতে রিশিকুল, পাকড়ি ও গোদাগাড়ী ইউনিয়নসহ বেশ কিছু এলাকায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে।


স্থানীয় কৃষকদের দাবি অবিরাম বৃষ্টিতে ধান ক্ষেত তলিয়ে গেলেও গোদাগাড়ীতে ওয়াসার পাইপ লাইনের কাজ চলায় বিল থেকে ঠিকমত পানি বের হতে পারছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। এ ঝড় স্থায়ী ছিল মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট। এ সময় ঝড়ের তাণ্ডবে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রবল বাতাসে উড়ে গেছে ঘরের চালা, ভেঙ্গে গেছে দেওয়াল। নষ্ট হয়েছে ঘরে রক্ষিত খাদ্য সামগ্রী। লন্ডভন্ড হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র।
ছোট-বড় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ভেঙে গেছে বিদ্যুতের খাম্বা। রাস্তায় গাছ পড়ে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে। বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
পিরিজপুর গ্রামের ঝড়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাঠ উড়িয়ে নেওয়া পরিবার গুলো জানায়, রাতে ঝড়ে ঘরবাড়ির টিন উড়িয়ে নিয়েছে, দেওয়াল ভেঙ্গে তারা প্রায় নিঃষশো হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হবে। এছাড়াও গাছপালা ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পিরিজপুর গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা টেবলু বলেন, রাতে হঠাৎ শোঁ শোঁ শব্দ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়া যায়। গাছপালা ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাটিকাটা ইউনিয়নের ধানের কিছু গাছ হেলে পড়েছে। তবে ধান প্রায় পরিপক্ষ হয়ে গেছে, কিছু দিনের মধ্যে ধান কাটা হতো। ধানের হালকা ক্ষতি হতে পারে। যে সকল ভুট্টার বীজ বপন করা হয়েছে গাছ বের হয়নি তার সামান্য ক্ষতি হতে পারে। টমেটো গাছের ডাল মাটিতে পড়ে গেছে সেগুলো মাটি শুকালেই ঠিক হয়ে যাবে। অগ্রিম লাগানো যে গাছে ফুল এসেছিল সেগুলোর সামান্য ক্ষতি হতে পারে। ফল কয়েকদিন দেরিতে পাবে।
পিরিজপুর ৪ নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য তোতা বলেন, ঝড়ে এক শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ ১২ টি পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদেও পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের তালিকা তৈরি করে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ