রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) টানা ছয় দিন ধরে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য, তার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। তবে তিনি জ্ঞান রাখছেন এবং পরিচিত মুখ চিনতে পারছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, তার প্রয়োজন আরও উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসা।
দেশজুড়ে চলছে তার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা। মসজিদে মসজিদে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকেই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও আপসহীন অবস্থানের কথা স্মরণ করে দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
এমন সংকটময় মুহূর্তে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার এই মানবিক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে তার অবস্থার খোঁজ নেন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। বেরিয়ে এসে এক ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন।’
এর আগে সিসিইউতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান। বাইরে এসে মির্জা আব্বাস বলেন, এই মুহূর্তে তিনি খালেদা জিয়ার অবস্থাকে ‘স্থিতিশীল নয়’ বলে মনে করছেন। বলেন, ‘আরও উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো ভালো হবেন। আমাদেরকে চিনতে পেরেছেন, সালামের জবাব দিয়েছেন।’
ড. আব্দুল মঈন খান জানান, ‘চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’ এদিকে বিকেলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়।’
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলছে তার চিকিৎসা। প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের সামনে ভিড় এড়াতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছে বিএনপি। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সারাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে।