ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩ ১০০ বার পড়া হয়েছে

ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রাণনাশ করাকে আত্মহত্যা বলে। বর্তমানে আত্মহত্যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আত্মহত্যার পেছনে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাকে দায়ী করেন আলেমরা। ইসলামে নিজের জীবন বাঁচানোকে ফরজ করা হয়েছে আর আত্মহত্যাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলাম সম্পর্কে জানলে, ইসলাম মানলে, ইসলামে পুরোপুরি দাখিল হলে আত্মহত্যার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ারও সুযোগ নেই। কেননা আত্মহত্যাকারীর জন্য জাহান্নামই চূড়ান্ত স্থান।

প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে প্রথমেই এ কথা গেঁথে রাখতে হবে যে, আত্মহত্যা হারাম। এই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার। তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না’ (সুরা নিসা: ২৯)। তাই এই নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ নেই।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামেও তার সেই যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তার সেই যন্ত্রণাকেও জাহান্নামে অব্যাহত রাখা হবে’ (বুখারি: ৪৪৬)। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই একটি চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এরপর রক্তক্ষরণের কারণে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি: ৩২৭৬; মুসলিম: ১১৩)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে পাহাড় থেকে পড়ার অনুরূপ শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, সে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে বিষপানের আজাব ভোগ করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে তা দ্বারা শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। (বুখারি: ৫৭৭৮)

আত্মহত্যার পরকালীন শাস্তি নিয়ে অনেক হাদিস রয়েছে। বস্তুত ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যে বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ (বুখারি: ৫৭০০; মুসলিম: ১১০)
দুনিয়ায় আত্মহত্যাকারীর প্রতি মানুষের ঘৃণা জন্মায়। রাসুলুল্লাহ (স.) এসব পাপিষ্ঠ ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়েননি। জাবের বিন সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছে, যে লোহার ফলা দ্বারা আত্মহত্যা করেছিল, ফলে তিনি তার জানাজার নামাজ আদায় করেননি।’ (মুসলিম: ১৬২৪)

সুতরাং আত্মহত্যা প্রতিরোধে ইসলামি সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। সাধারণত যেসব কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে সে বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সেসব বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশগুলোকে সমাজে তুলে ধরতে হবে। এতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন হবে। কোরআনের যেসব নির্দেশনা মানলে সমাজ থেকে আত্মহত্যার চিন্তাও ধ্বংস হয়ে যায়, সেসব আয়াত নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

১) হতাশা থেকে আত্মহত্যা
ইসলাম শিখিয়েছে, আত্মহত্যা কখনও সমাধান নয়। তাই যে কারণেই হতাশা আসুক, মনে স্থান দেওয়া যাবে না। বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা জুমার: ৫৩)

২) মসিবতে অধৈর্য হয়ে আত্মহত্যা
ইসলাম বলে, আল্লাহ তাআলা বিপদাপদ দেন মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। যারা ধৈর্যধারণ করবে তারাই সফল হবে। ‘আমি তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)

৩) অভাবের কারণে আত্মহত্যা
অভাব-অনটন অসহ্য হয়ে উঠলেও মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ধনীরা গরীবের পাশে দাঁড়ালে এমনটি আর হয় না। তাই ইসলাম ধনীদের নির্দেশ দিয়েছে অভাবীদের অভাব মোচনে এগিয়ে আসতে। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে (সুরা জারিয়াত: ১৯)
৪) জীবনে সফল না হওয়ার কারণে আত্মহত্যা
পার্থিব ব্যর্থতা বলতে আসলে কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, সাফল্য ও ব্যর্থতার স্থান হলো আখেরাত। পার্থিব জগতে কোনো কিছু অর্জিত না হলে সেজন্য জীবননাশ করা অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়। এ জীবনকে বড় করে দেখা উচিত নয়। পরকালই আসল জীবন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এ দুনিয়ার জীবন তো ক্ষণস্থায়ী উপভোগের বস্তু। নিঃসন্দেহে আখেরাতই চিরস্থায়ী আবাস’ (সুরা মুমিনুন: ৩৯)। তাই যত ব্যর্থই হোন, আল্লাহ তাআলার সরাসরি নির্দেশ ভুলে যাবেন না যে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৫)

৫) প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা
প্রেমের কারণেও অনেকে আত্মহত্যা করে। এটি হতভাগাদের কাজ। ইসলামে বিয়ের আগে প্রেম তো দূরের কথা গায়েরে মাহরাম নারী-পুরুষ পরস্পরের দিকে দৃষ্টিপাতই নিষেধ। যেখানে প্রেম করার আগে দৃষ্টিপাতই নিষেধ, সেখানে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করা— এ বিষয়ে আলোচনা করাও অবান্তর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা নুর: ৩০-৩১)
৬) অপমানবোধ থেকে আত্মহত্যা
অনেকে অপমান সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। ইসলামে কাউকে অপমান করা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা নাজায়েজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রূপ না করে, কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম পারে। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তওবা করে না, তারাই তো জালেম। (সুরা হুজরাত: ১১)

অতএব আত্মহত্যা প্রতিরোধে উল্লেখিত বিষয়গুলো ও কোরআন হাদিসের দলিল নিয়ে বেশি বেশি দ্বীনি আলোচনা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পুরোপুরি ইসলামে দাখিল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসলামে আত্মহত্যা হারাম

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রাণনাশ করাকে আত্মহত্যা বলে। বর্তমানে আত্মহত্যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আত্মহত্যার পেছনে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাকে দায়ী করেন আলেমরা। ইসলামে নিজের জীবন বাঁচানোকে ফরজ করা হয়েছে আর আত্মহত্যাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলাম সম্পর্কে জানলে, ইসলাম মানলে, ইসলামে পুরোপুরি দাখিল হলে আত্মহত্যার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ারও সুযোগ নেই। কেননা আত্মহত্যাকারীর জন্য জাহান্নামই চূড়ান্ত স্থান।

প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে প্রথমেই এ কথা গেঁথে রাখতে হবে যে, আত্মহত্যা হারাম। এই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার। তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না’ (সুরা নিসা: ২৯)। তাই এই নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ নেই।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামেও তার সেই যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তার সেই যন্ত্রণাকেও জাহান্নামে অব্যাহত রাখা হবে’ (বুখারি: ৪৪৬)। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই একটি চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এরপর রক্তক্ষরণের কারণে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি: ৩২৭৬; মুসলিম: ১১৩)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে পাহাড় থেকে পড়ার অনুরূপ শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, সে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে বিষপানের আজাব ভোগ করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে তা দ্বারা শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। (বুখারি: ৫৭৭৮)

আত্মহত্যার পরকালীন শাস্তি নিয়ে অনেক হাদিস রয়েছে। বস্তুত ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যে বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ (বুখারি: ৫৭০০; মুসলিম: ১১০)
দুনিয়ায় আত্মহত্যাকারীর প্রতি মানুষের ঘৃণা জন্মায়। রাসুলুল্লাহ (স.) এসব পাপিষ্ঠ ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়েননি। জাবের বিন সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছে, যে লোহার ফলা দ্বারা আত্মহত্যা করেছিল, ফলে তিনি তার জানাজার নামাজ আদায় করেননি।’ (মুসলিম: ১৬২৪)

সুতরাং আত্মহত্যা প্রতিরোধে ইসলামি সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। সাধারণত যেসব কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে সে বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সেসব বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশগুলোকে সমাজে তুলে ধরতে হবে। এতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন হবে। কোরআনের যেসব নির্দেশনা মানলে সমাজ থেকে আত্মহত্যার চিন্তাও ধ্বংস হয়ে যায়, সেসব আয়াত নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

১) হতাশা থেকে আত্মহত্যা
ইসলাম শিখিয়েছে, আত্মহত্যা কখনও সমাধান নয়। তাই যে কারণেই হতাশা আসুক, মনে স্থান দেওয়া যাবে না। বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা জুমার: ৫৩)

২) মসিবতে অধৈর্য হয়ে আত্মহত্যা
ইসলাম বলে, আল্লাহ তাআলা বিপদাপদ দেন মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। যারা ধৈর্যধারণ করবে তারাই সফল হবে। ‘আমি তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)

৩) অভাবের কারণে আত্মহত্যা
অভাব-অনটন অসহ্য হয়ে উঠলেও মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ধনীরা গরীবের পাশে দাঁড়ালে এমনটি আর হয় না। তাই ইসলাম ধনীদের নির্দেশ দিয়েছে অভাবীদের অভাব মোচনে এগিয়ে আসতে। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে (সুরা জারিয়াত: ১৯)
৪) জীবনে সফল না হওয়ার কারণে আত্মহত্যা
পার্থিব ব্যর্থতা বলতে আসলে কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, সাফল্য ও ব্যর্থতার স্থান হলো আখেরাত। পার্থিব জগতে কোনো কিছু অর্জিত না হলে সেজন্য জীবননাশ করা অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়। এ জীবনকে বড় করে দেখা উচিত নয়। পরকালই আসল জীবন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এ দুনিয়ার জীবন তো ক্ষণস্থায়ী উপভোগের বস্তু। নিঃসন্দেহে আখেরাতই চিরস্থায়ী আবাস’ (সুরা মুমিনুন: ৩৯)। তাই যত ব্যর্থই হোন, আল্লাহ তাআলার সরাসরি নির্দেশ ভুলে যাবেন না যে, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৫)

৫) প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা
প্রেমের কারণেও অনেকে আত্মহত্যা করে। এটি হতভাগাদের কাজ। ইসলামে বিয়ের আগে প্রেম তো দূরের কথা গায়েরে মাহরাম নারী-পুরুষ পরস্পরের দিকে দৃষ্টিপাতই নিষেধ। যেখানে প্রেম করার আগে দৃষ্টিপাতই নিষেধ, সেখানে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করা— এ বিষয়ে আলোচনা করাও অবান্তর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা নুর: ৩০-৩১)
৬) অপমানবোধ থেকে আত্মহত্যা
অনেকে অপমান সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। ইসলামে কাউকে অপমান করা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা নাজায়েজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রূপ না করে, কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম পারে। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তওবা করে না, তারাই তো জালেম। (সুরা হুজরাত: ১১)

অতএব আত্মহত্যা প্রতিরোধে উল্লেখিত বিষয়গুলো ও কোরআন হাদিসের দলিল নিয়ে বেশি বেশি দ্বীনি আলোচনা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পুরোপুরি ইসলামে দাখিল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।