ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের সার্বভৌমত্বের ডাক দিলেন মাক্রোঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

চীন সফরের পর আবারও বাকি বিশ্বের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপকে আরো শক্তিশালী করার ডাক দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। নেদারল্যান্ডসে এক রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে এক ভাষণে তিনি বলেছেন, ইউরোপের এখন প্রয়োজন প্রকৃত সার্বভৌমত্ব অর্জন করা।

গত কয়েক দিন ধরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের ভেতরে ও বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার সময় তিনি দু-দুটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বদলে ইউরোপের ‘কৌশলগত সার্বভৌমত্ব’-এর উপর জোর দিয়েছেন। তাইওয়ান প্রশ্নে ইউরোপের নরম অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে দেওয়া সেই ভাষণে ইউরোপের ভবিষ্যতের সেই একই রূপরেখা তুলে ধরেছেন ম্যাক্রোঁ।

ম্যাক্রোঁ বলেন, করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে হলে ইউরোপকে বাইরের জগতের উপর নির্ভরতা কমাতেই হবে। অর্থাৎ নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী সহযোগী বাছাই এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই বেছে নেওয়ার পথে এগোতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, শুধু বর্তমান বিশ্বের নাটকীয় বিবর্তনের সাক্ষী হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার পরিবর্তে খোলা মনে সহযোগিতার মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।

‘অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি, আমরা আমাদের বন্ধু ও অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা চাই। অন্যেদের বেঁধে দেওয়া নিয়মে আর চলা নয়, আমাদের নিজেদের নিয়ম আমরা নিজেরা তৈরি করতে চাই,’ ভাষণে বলেন তিনি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যেভাবে চীন, তাইওয়ান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের নতুন রসায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে চীনের প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখিয়ে তিনি তার ইউরোপীয় মিত্র ও প্রতিবেশীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি ইউরোপকে তৃতীয় পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে যে অবস্থান তিনি নিয়েছেন,তা ও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউশ মোরাভিয়েৎস্কি ম্যাক্রোঁর এই অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সহযোগিতা ইউরোপের নিরাপত্তার ‘দৃঢ় ভিত্তি’৷ যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ অন্যান্য দেশেও মাক্রোঁর বক্তব্যের সমালোচনা শোনা গেছে।

মঙ্গলবারের ভাষণে ম্যাক্রোঁ ইউরোপের জন্য আরও শক্তিশালী শিল্পনীতির প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই প্রস্তাবে মূলত ইউরোপেই উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্ভরতা কমানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এ সম্পর্কে ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সেই পথেই চলেছে৷ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে ইউরোপ জ্বালানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা যেভাবে প্রায় মুক্ত হতে পেরেছে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সেই পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

অবশ্য মঙ্গলবারের ভাষণের মাঝেই প্রতিবাদের মুখে পড়েন ম্যাক্রোঁ৷ বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে চিৎকার করে প্রশ্ন তোলেন, ‘ফরাসি গণতন্ত্র কোথায়?’ উল্লেখ্য, অবসর ভাতা কাঠামোর সংস্কারকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে সম্প্রতি প্রবল প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন ম্যাক্রোঁ। হেগ শহরে ভাষণের সময়েও তাঁকে ‘হিংসা ও দ্বিচারিতার প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে সমালোচনা শুনতে হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউরোপের সার্বভৌমত্বের ডাক দিলেন মাক্রোঁ

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩

চীন সফরের পর আবারও বাকি বিশ্বের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপকে আরো শক্তিশালী করার ডাক দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। নেদারল্যান্ডসে এক রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে এক ভাষণে তিনি বলেছেন, ইউরোপের এখন প্রয়োজন প্রকৃত সার্বভৌমত্ব অর্জন করা।

গত কয়েক দিন ধরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের ভেতরে ও বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার সময় তিনি দু-দুটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বদলে ইউরোপের ‘কৌশলগত সার্বভৌমত্ব’-এর উপর জোর দিয়েছেন। তাইওয়ান প্রশ্নে ইউরোপের নরম অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে দেওয়া সেই ভাষণে ইউরোপের ভবিষ্যতের সেই একই রূপরেখা তুলে ধরেছেন ম্যাক্রোঁ।

ম্যাক্রোঁ বলেন, করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে হলে ইউরোপকে বাইরের জগতের উপর নির্ভরতা কমাতেই হবে। অর্থাৎ নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী সহযোগী বাছাই এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই বেছে নেওয়ার পথে এগোতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, শুধু বর্তমান বিশ্বের নাটকীয় বিবর্তনের সাক্ষী হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার পরিবর্তে খোলা মনে সহযোগিতার মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।

‘অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি, আমরা আমাদের বন্ধু ও অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা চাই। অন্যেদের বেঁধে দেওয়া নিয়মে আর চলা নয়, আমাদের নিজেদের নিয়ম আমরা নিজেরা তৈরি করতে চাই,’ ভাষণে বলেন তিনি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যেভাবে চীন, তাইওয়ান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের নতুন রসায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে চীনের প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখিয়ে তিনি তার ইউরোপীয় মিত্র ও প্রতিবেশীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি ইউরোপকে তৃতীয় পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে যে অবস্থান তিনি নিয়েছেন,তা ও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউশ মোরাভিয়েৎস্কি ম্যাক্রোঁর এই অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সহযোগিতা ইউরোপের নিরাপত্তার ‘দৃঢ় ভিত্তি’৷ যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ অন্যান্য দেশেও মাক্রোঁর বক্তব্যের সমালোচনা শোনা গেছে।

মঙ্গলবারের ভাষণে ম্যাক্রোঁ ইউরোপের জন্য আরও শক্তিশালী শিল্পনীতির প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই প্রস্তাবে মূলত ইউরোপেই উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্ভরতা কমানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এ সম্পর্কে ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সেই পথেই চলেছে৷ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে ইউরোপ জ্বালানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা যেভাবে প্রায় মুক্ত হতে পেরেছে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সেই পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

অবশ্য মঙ্গলবারের ভাষণের মাঝেই প্রতিবাদের মুখে পড়েন ম্যাক্রোঁ৷ বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে চিৎকার করে প্রশ্ন তোলেন, ‘ফরাসি গণতন্ত্র কোথায়?’ উল্লেখ্য, অবসর ভাতা কাঠামোর সংস্কারকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে সম্প্রতি প্রবল প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন ম্যাক্রোঁ। হেগ শহরে ভাষণের সময়েও তাঁকে ‘হিংসা ও দ্বিচারিতার প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে সমালোচনা শুনতে হয়েছে।